শমসের–তৈমুরকে মীর জাফর আখ্যা প্রার্থীদের, তৈমুর বললেন এরা দলের কেউ না 

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:৪২ পিএম

তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মুবিন চৌধুরী ও মহাসচিব তৈমুর আলম খন্দকারকে মীর জাফর আখ্যা দিয়েছেন দলের প্রার্থীরা। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় এই আখ্যা দেন।

আলোচনা সভায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপি থেকে বিভিন্ন আসনে প্রার্থী হয়েছেন এমন নেতারা অংশ নেন। এসব নেতারা অভিযোগ করেন, ২৬-২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্ত ঢাকায় আসার পর দলের দুই শীর্ষ নেতার দেখা পাননি তারা। তারা অভিযোগ করেন, শমসের, তৈমুর ও দলের নির্বাহী চেয়ারপারসন অন্তরা হুদা এই তিন শীর্ষ নেতা নির্বাচনের মাঠে নামার পর থেকে তাদের কোনো খোঁজ খবর নেননি।  

তারা অভিযোগ করে বলেন, শমসের–তৈমুর এই দুই জাতীয় বেইমানের কারণে নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে বিরোধী দলে বসার পথ সুগম করা যায়নি। চলমান পরিস্থিতিতে দলের সংকট সমাধান করে তৃণমূল বিএনপি যেন বিরোধী দলের আসনে বসতে পারে সে জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান এই নেতারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৈমুর আলম খন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজ ঢাকায় যারা সভা করেছে এরা দলের কেউ না। এরা মিথ্যা ও বানোয়াট সব অভিযোগ করছে।  তৃণমূল বিএনপি এখনও নির্বাচনে সঠিক পথে আছে এবং নির্বাচনে ভালো ফলাফল করবে।

তবে এই সভায় তৃণমূল বিএনপির ভাইস চেয়ারপারসন মেজর (অব.) ডা. শেখ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্ব করার থাকলেও তিনি অংশ নেননি। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৫ আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী খন্দকার এমদাদুল হক ওরফে সেলিম।

এমদাদুল হক সেলিম বলেন, ‘আমরা নির্বাচন করার জন্য এসেছি। আমাদের চেয়ারপারসন ও মহাসচিব দলের যে অবস্থা করেছেন আমরা নির্বাচন করতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমাদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চাই।’

এর আগে গতকাল হঠাৎ করে নির্বাচনী প্রচারণা রেখে সিলেট থেকে ঢাকায় আসেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ও সিলেট–৬ আসনের নৌকার প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এই আসনে এবার নির্বাচন করছেন তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মুবিন চৌধুরী। নাহিদের ঢাকায় আসার খবর নির্বাচনী এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বৈঠক শেষে নাহিদ ঢাকা থেকে সিলেটের নেতা-কর্মীদের ফোন দিয়ে জানান, তিনি নির্বাচন করবেন। একই দিনে সন্ধ্যায় তিনি এলাকায় ফিরে রাতে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন।

এবারের নির্বাচনে শুরুতেই কিংস প্রার্থীর তকমা পাওয়া তৃণমূল বিএনপিকে নিয়ে রাজনীতিতে নানা জল্পনা কল্পনা চলছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে বিরোধী দল হওয়ার দৌড়ে অনেকেই তাদের দেখছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা চমক দিতে ব্যর্থ হয় এবং কিছুটা আড়ালে চলে যায়।

তবে শুরু থেকে নানা মন্তব্য-বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আছেন মহাসচিব তৈমুর আলম খন্দকার। তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। গুঞ্জন আছে, নির্বাচনের শুরুতে আওয়ামী লীগ থেকে এই আসনে প্রার্থী না হয়ে অন্য একটি আসন থেকে তৈমুরকে প্রার্থী হতে বলা হয়। কিন্ত তিনি যেকোনো মূল্যে এই আসন থেকে নির্বাচন করতে জেদ ধরেন।

কোন আসনে নির্বাচন করবেন, এ নিয়ে নিয়ে তৈমুর আলম খন্দকারের আলাপচারিতার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। যেখানে তাকে বলতে শুনা যায়, ‘৫-এ (নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন) কিনব না। প্রধানমন্ত্রীর সামনে যা বলার বলেছি। কথার পরিবর্তন করব না। ওনারা গাজীর (গোলাম দস্তগীর) কাছ থেকে বায়াসড (প্রভাবিত) হয়েছে। আমাদের দিয়ে যা খুশি করাবেন, তা হবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত