দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী ৩ ও ৪ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ৮জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। আজ শনিবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ বরাবর লিখিত এ অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা হলেন নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য রানা মোহাম্মদ সোহেল ও নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ আহসান আদেলুর রহমান আদেল।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, নীলফামারী ৩ও ৪ আসনের এই দুই প্রার্থী প্রার্থী প্রকাশ্যে ও বিভিন্ন মাধ্যমে ভোট গ্রহনের পূর্বেই নিজেদের আগাম সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করছেন। যা নির্বাচনের পরিবেশ ব্যাহত ও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। যার ফলে আমরা প্রার্থী ও সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এতে করে সাধারণ ভোটাররা ভোট প্রদানে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। এ বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনে তারা অনুরোধ জানান।
অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেন, নীলফামারী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মার্জিয়া সুলতানা (ঈগল), সাদ্দাম হোসেন পাভেল (কাচি), হুকুম আলী খান (ট্রাক), কাজী ফারুক কাদের (কেতলী), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির প্রার্থী বাদশা আলমগীর (হাতঘড়ি) ও গণতন্ত্রী পার্টির মোজাম্মেল হক (কবুতর) এবং নীলফামারী-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোখছেদুল মোমিন (ট্রাক) ও জাসদ প্রার্থী আজিজুল হক (মশাল)।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন পাভেল বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী রানা মোহম্মদ সোহেল প্রকাশে বলে বেড়াচ্ছেন তিনি একটি ভোট পেলেও এমপি নির্বাচিত হবেন। এটা সম্পূর্ণ আচরণ বিধি লঙ্ঘন। এতে ভোটার ও সমর্থকদের মধ্যে ভোট প্রদানের আগ্রহ হারাচ্ছে। বিষয়টি আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।
নীলফামারী-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোখছেদুল মোমিন বলেন, এ আসনের লাঙ্গলের প্রার্থী নির্বাচনের আগে নিজেকে বিজয়ী বলে বিভিন্নভাবে বলে বেড়াচ্ছেন। আমরা এর প্রতিকার চেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।
সংসদ সদস্য রানা মোহাম্মদ সোহেল বলেন, এ কথা আমি কখনো বলি নাই। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। তারা আমাকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে ফায়দা লুটার অপচেষ্টা করছে। আমি যদি এমন কথা বলে থাকি তাহলে এর ভিডিও বা কোন প্রমাণ দেখাতে পারলে আমি এর দায়ভার মাথা পেতে নেব।
সংসদ সদস্য আদেলুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ বলেন, অভিযোগ পত্রটি আমার কার্যালয়ে জমা দেয়ার কথা। আমি সেটি দেখে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।
