ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান বলেছেন, পথভ্রষ্ট, অতিউৎসাহী, সন্ত্রাসীদের কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। কোনো প্রকার অনিয়ম হলে চাকরি হারাতে হবে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের। কেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে ভোট বন্ধ করে চলে যাবেন, লাগলে পরে ভোট নেওয়া হবে।
গতকাল শনিবার সকালে যশোরের মনিরামপুরে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এ কথা বলেন তিনি।
মনিরামপুর সরকারি উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ে আয়োজিত কর্মশালায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর প্রমুখ।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ভোট নিয়ে নানা অভিযোগ আসে। সত্য ও মিথ্যা দুটি অভিযোগই তদন্ত করা হবে। মিথ্যা অভিযোগ দিলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের দেশের ওপর বিদেশিদের নজর আছে। বাইরের কেউ আমাদের সমস্যা ঠিক করে দিতে পারবে না। ফলে আমাদের সমস্যা আমাদেরই সমাধান করতে হবে।’
দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালায় মনিরামপুর উপজেলার ২ হাজার ৭০০ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
জাল ভোট পড়লেই ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হবে : ইসি আহসান হাবিব খান বলেছেন, কোনো কেন্দ্রে জাল ভোট পড়লেই প্রমাণসাপেক্ষে সেই ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারকে চাকরিচ্যুত করা হবে।
গতকাল বিকেলে শার্শা উপজেলা অডিটোরিয়ামে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
৭ জানুয়ারির নির্বাচনে কারচুপি করার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। প্রার্থী যত শক্তিশালী বা দুর্বলই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেননা সবাই কমিশনের কাছে সমান। শতভাগ নিরপেক্ষতা নিয়ে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। আগামী নির্বাচনের দিকে দেশি-বিদেশিসহ সবাই তাকিয়ে আছে।’
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নয়ন কুমার রাজবংশীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আবরাউল হাছান মজুমদার, জেলা পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার ও খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
