বাংলাদেশ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার মাঠসহকারী সাইদুর রহমান সাঈদ অসুস্থতাজনিত ছুটি (মেডিকেল লিভ) নিয়ে মেহেরপুরে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। মেহেরপুর-১ সংসদীয় আসনের নৌকা প্রার্থীর জনসভায় ভোট চেয়ে বক্তব্যও দিচ্ছেন। কোনো কোনো জনসভায় তাকে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করতেও দেখা গেছে। ইতিমধ্যে অবশ্য তাকে সরকারি চাকরি ও আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছেন মেহেরপুরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২য় আদালতের বিচারক এইচ এম কবির হোসেন। অবশ্য সাইদুর রহমান তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সম্প্রতি সাইদুর রহমান নির্বাচনী প্রচার সভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভোটারদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমি চাকরি সূত্রে দেশের সব জেলা ঘুরেছি। অনেক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ হয়েছে। তবে, আজ যে প্রার্থীর জন্য জনসভায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছি, তার মতো ভালো মানুষ আমি খুঁজে পাইনি।
আপনারা এমন মানুষকে ভোট না দিলে নিজের সঙ্গে প্রতারণা করবেন। তাই নিজে ভোট দেবেন এবং অন্যকে ভোট দিতে বলবেন। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে আবারও জয়ী করতে হবে।’
সাইদুর রহমানের এমন বক্তব্য দৃষ্টিগোচর হলে মেহেরপুর-১ সংসদীয় আসনের নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান এবং মেহেরপুরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২য় আদালতের বিচারক এইচ এম কবির হোসেন স্বপ্রণোদিত হয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছেন।
তাকে সশরীরে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির কাছে হাজির হয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক মেহেরপুর জেলা শাখাপ্রধান মেহেদী হাসান বলেন, সাইদুর রহমান আগে বাংলাদেশ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক মেহেরপুর শাখায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখায় কর্মরত আছেন। যতদূর জানি অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি মেডিকেল লিভ নিয়েছেন।
সরকারি কর্মচারী (আচরণ)-১৯৭৯-এর রাজনীতি ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ অংশে বলা আছে সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা রাজনৈতিক দলের কোনো অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে অথবা অন্য কোনোভাবে যুক্ত হতে পারবেন না অথবা বাংলাদেশ বা বিদেশে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে বা কোনো প্রকারের সহায়তা করতে পারবেন না।
বিষয়টি নিয়ে সাইদুর রহমান বলেন, ‘অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটিতে আছি। আমরা সরকারি কর্মচারী হয়ে রাজনৈতিক মিটিং বা নির্বাচনে অংশ নিতে পারি না জানি। তবে হ্যাঁ, আমি প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের ভোটের প্রচারণা সভা দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে মঞ্চে উঠে বক্তব্য দিইনি। নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির কাছে এই জবাবই দেব।’
