ঘরের মাঠ সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শেষ টেস্ট খেলবেন ডেভিড ওয়ার্নার। দর্শকদের বাড়তি আগ্রহ ছিল তাই। তার ওপর আগের দিন পুরনো ব্যাগি গ্রিন টুপি হারিয়ে তা ফেরত পেতে যে আর্জি জানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়, তা নিয়ে আবেগাপ্লুত ভক্তরা। তাই সিডনি টেস্টে সবাই তাকে আগে ব্যাটিং দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে তাদের সেই অপেক্ষা বাড়িয়ে দেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা অবশ্য চেষ্টা করেছেন ওয়ার্নারকে যতটা সম্ভব দ্রুত ব্যাটিংয়ে নামাতে। কিন্তু মোহাম্মদ রিজওয়ান ও আগা সালমানের পর অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে ওয়ার্নারকে দেরি করিয়ে দিয়েছেন আমির জামাল।
৫৫তম ওভারে ২২৭ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর মীর হামজাকে নিয়ে ৮৬ রানের অবিশ্বাস্য এক জুটি গড়ে জামাল বিদায় নেন যখন, পাকিস্তানের স্কোর ৩১৩-তে পৌঁছে গেছে। এরপর ওয়ার্নার মাত্র এক ওভার খেলার সুযোগ পেয়েছেন। সাজিদ খানের সেই ওভারের ৬টি বলই খেলেছেন ওয়ার্নার। ৬ রান করে ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন ওয়ার্নার। অস্ট্রেলিয়ার রানও ৬।
পাকিস্তানের শুরু হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিক এবং অভিষিক্ত সাইম আইয়ুব আউট হন শূন্যতে। বাবর আজম ২৬, সৌদ শাকিল ৫ রান করে বিদায় নিলে ৪৭/৪ এ পরিণত হয় পাকিস্তান। অধিনায়ক শান মাসুদ ৩৫ রান করে দল ১০০ রানে পৌঁছানোর আগেই আউট হন। এরপর হাল ধরেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও আগা সালমান। দুজনের ৯৪ রানের জুটিতে বিপদ সামাল দেয় পাকিস্তান। কিন্তু এরপর কামিন্স ও স্টার্ক দুজনের কেউই তাদের রানটা বড় হতে দেননি। রিজওয়ান ৮৮ রান করে ছক্কার আশায় উড়িয়ে কামিন্সের শিকার হন। হাসান আলিকে আউট করে কামিন্স যখন টানা তৃতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করেন, পাকিস্তান দাঁড়িয়ে ২২৭/৯-এ। সেখান থেকে শেষ ব্যাটসম্যান মীর হামজাকে নিয়ে লড়াই শুরু জামালের। দুই টেস্ট আগে ক্যারিয়ারের শুরুতেই ৬ উইকেট নেওয়া এই ফাস্ট বোলার ব্যাট করেছেন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের মতোই। বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই তুলে নেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম ফিফটি। ৯৭ বলে ৮২ রান করা জামাল মেরেছেন চারটি ছক্কাও। ১৩ রানে যিনি জীবন দিয়েছিলেন জামালকে সেই নাথান লায়নই আউট করেছেন তাকে। জামালের সঙ্গে শেষ জুটিতে ৮৬ রান টেস্টে পাকিস্তানের হয়ে শেষ উইকেটে এর চেয়ে বড় জুটি আছে মাত্র ছয়টি।
দিনের খেলা শেষে নিজের ব্যাটিং নিয়ে আমির বলেছেন, ‘ব্যাটিংয়ে নামার সময়ই জানতাম অস্ট্রেলিয়া জোরালো আক্রমণ করবে। সেজন্য প্রস্তুত ছিলাম। তারা আমাদের দ্রুত অলআউট করতে চেয়েছে, সেজন্য আমি প্রায় সব বলেই চড়াও হয়েছি।’ এখন বোলিংয়ে কী করেন জামাল সেটাই দেখার। সিরিজে এখন পর্যন্ত দুই টেস্টে ১২ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান ১ম ইনিংস : ৭৭.১ ওভারে ৩১৩ (রিজওয়ান ৮৮, জামাল ৮২, সালমান ৫৩, মাসুদ ৩৫, বাবর ২৬; কামিন্স ৫/৬১, স্টার্ক ২/৭৫)।
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১ ওভারে ৬/০ (ওয়ার্নার ৬*)।
