দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে নৌকার প্রার্থীর চ্যালেঞ্জে পড়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। এ আসনে কাদের সিদ্দিকীর গামছাকে আওয়ামী লীগের ছাড় দেওয়া নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা হলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি। আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী অনুপম শাহজাহান জয়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে কাদের সিদ্দিকীকে। এতে করে ঝুঁকিতে পড়তে পারেন কাদের সিদ্দিকী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ আসনে আওয়ামী লীগের কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকায় নৌকার প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। তবে নৌকার মতো কাদের সিদ্দিকীর গামছারও বড় ভোটব্যাংক রয়েছে দুই উপজেলায়। তাই সবমিলে নৌকার সঙ্গে গামছার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাদের সিদ্দিকীকে ঘিরে ধোঁয়াশা ও শঙ্কায় ছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নির্বাচনী মাঠে আসেন কাদের সিদ্দিকী। গুঞ্জন ওঠে টাঙ্গাইল-৮ আসন প্রধানমন্ত্রী কাদের সিদ্দিকীকে ছেড়ে দিয়েছেন। এরপর মনোনয়ন, আসন ভাগাভাগিসহ নির্বাচনী সবকটা স্তরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নীরব ছিলেন। তবে গত ২৪ ডিসেম্বর অনুপম শাহজাহান জয় সখীপুর-বাসাইলের কয়েকজন নেতাদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এরপর সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চাঙ্গা হয়ে নির্বাচনী মাঠে ফেরে আওয়ামী লীগ।
নৌকার প্রার্থী অনুপম শাহজাহান জয় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হিসাব-নিকাশ করেই মনোনয়ন দিয়েছেন। এ আসনে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো জোট নেই। উৎসবমুখর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে এ আসনটি আমি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেব।’
বেশ কয়েকটি পথসভা ও নির্বাচনী শেষ জনসভা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কাদের সিদ্দিকীর মূল প্রতিশ্রুতি পাহাড়বাসীর বিষফোঁড়া আটিয়া বন অধ্যাদেশ সংশোধন বা বাতিল করে বন বিভাগের অত্যাচার থেকে সখীপুরবাসীকে মুক্ত করা। নির্বাচনের ছয় মাসের মধ্যে জমির খাজনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অনুপম সখীপুরের ১৪ মৌজার জটিলতা নিরসন, জমি দখলমুক্ত, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সখীপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত শিকদার বলেন, ‘সখীপুর-বাসাইল আওয়ামী লীগের অবস্থান খুবই শক্তিশালী। এখানে রয়েছে আওয়ামী লীগের নিজস্ব ভোটব্যাংক।’
সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন সজীব বলেন, ‘বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ১৯৭১ সাল থেকেই সখীপুর-বাসাইলের মানুষের সঙ্গে মিশে আছেন। মানুষ বঙ্গবীরকে ভোটের মাধ্যমেই নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাবেন।’
