আবার সংসদে আসা আনন্দের বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও একাদশ সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের। তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিরোধী দলে ছিলাম বিরোধী দলেই থাকতে চাই।’ গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে শপথগ্রহণের পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংখ্যায় বেশি থাকার কারণে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে কারা বসবে, এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না নিয়মটা কী। তবে আমরা বিরোধী দলে ছিলাম এবং বিরোধী দলে থাকতে চাই। আমরা জনকল্যাণমুখী, যেটা জনগণের ভালো হয় সেটিই আমরা করতে চাই।’
জাপা চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের ব্যর্থতার জন্য নেতাকর্মীরা পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো সাজানো জিনিস। কিছু লোক আমাদের পার্টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অথবা ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে।’
একই বিষয়ে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেন জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, ‘আমাদেরই বিরোধী দলের আসনে বসা উচিত। স্বতন্ত্ররা বিরোধী দলে বসলে এটা একদলীয় শাসন হয়ে যাবে। সংসদ নিয়ে নানা কথা উঠবে। যেহেতু আওয়ামী লীগের পর জাপাই সর্বোচ্চ আসনে জয় পেয়েছে সুতরাং দল হিসেবে জাপাই বিরোধী দল।’
জাপা মহাসচিব বলেন, যেহেতু আমরা সিট অনেক কম পেয়েছি। আমাদের চেয়ে স্বতন্ত্ররা সিট বেশি পেয়েছেন তাই এই আলোচনা চলছে। সংসদে বিরোধী দল থেকে ২৫টি আসনের প্রয়োজন, এরকম একটা বিষয় আছে, এটা একটা টেকনিক্যাল বিষয়।’
তিনি মনে করেন এ বিষয়ে সংসদের স্পিকার ভালো ভূমিকা নিতে পারেন। স্পিকার যদি নিজে থেকে একটা উদ্যোগ নেন তাহলে জাপা বিরোধী দলে বসতে পারে, বলেন চুন্নু। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের পার্লামেন্টারি পার্টির মিটিংয়ে স্বতন্ত্ররা মিলে যদি আমরা ২৫ জন বসতে পারি, তাহলে বিরোধী দল নিয়ে যে আলোচনা চলছে তার সমাধান হয়ে যাবে। স্বতন্ত্ররা যদি রাজি থাকেন তাহলে এ বিষয়ে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই।’
