চমেক হাসপাতাল

দুটি এনজিওগ্রাম মেশিনই অচল, বন্ধ ক্যাথল্যাব

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:২১ পিএম

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের ক্যাথল্যাবে স্থাপন করা দুটি এনজিওগ্রাম মেশিনের মধ্যে একটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল ২০২১ সালের জুলাই মাসে। সেসময় থেকে সেটি অচল হয়েই আছে। এবার এক সপ্তাহ ধরে অচল হয়ে আছে দ্বিতীয়টিও। দ্বিতীয় এনজিওগ্রাম মেশিনটি অচল হয়ে যাওয়ায় কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে হৃদরোগীদের হার্টে রিং পরানো, পেসমেকার স্থাপন, এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি ও ভাল্ব সম্প্রসারণের (পিটিএমসি) মতো জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জেনারেল শামীম আহসান বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ২টার দিকে দেশ রূপান্তরকে জানান, বর্তমানে অচল হয়ে যাওয়া এনজিওগ্রাম মেশিনটি ক্যাথল্যাবে স্থাপন করা হয়েছিল ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। এটি সাত বছরের ওয়ারেন্টি ছিল। বর্তমানে সেবা বন্ধ থাকায় জরুরি মুহূর্তে রোগীরা বেসরকারি হাসপাতালে ছুটতে বাধ্য হচ্ছেন।

গত ৮ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করার কথা জানিয়ে চমেক হাসপাতালের শীর্ষ এই কর্মকর্তা বলেন, গত মঙ্গলবার এনজিওগ্রাম মেশিনটির ত্রুটি সারাতে সরবরাহকারী বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেডের প্রকৌশলীরা চমেক হাসপাতালে আসেন। গত তিন দিন ধরে তারা চেষ্টা করেও মেশিনটি সচল করতে পারছেন না। এর আড়াই বছর আগে প্রথমটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার দ্বিতীয়টিও অচল হয়ে যাওয়ায় কার্যত হৃদরোগীদের সেবা বন্ধ আছে।

ত্রুটি সারাতে আসা প্রকৌশলীদের বরাত দিয়ে চমেক হাসপাতালের পরিচালক জানান, সপ্তাহ ধরে অচল থাকা এনজিওগ্রাম মেশিনটির টিউব নষ্ট হলে সেটি জাপান থেকে আনতে হবে বলে প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন। আর এমনটি হলে অচল এনজিওগ্রাম মেশিনটি সচল হতে সময় লাগবে আরও এক মাস। সূত্রটি জানায়, আড়াই বছর আগে নষ্ট হওয়া এনজিওগ্রাম মেশিনটি সচল করতে সংশ্লিষ্টরা ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা খরচ দাবি করেছিলেন। কিন্তু সেই অর্থ জোগান দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় অচল অবস্থায় পড়ে আছে প্রথম এনজিওগ্রাম মেশিনটিও।

চমেক সূত্র জানায়, একটি এনজিওগ্রাম মেশিন দিয়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন হৃদরোগীর এনজিওগ্রাম এবং ৫ থেকে সাতজন রোগীর এনজিওপ্লাস্টি করা হয়। এর বাইরে হার্টে স্থায়ী পেসমেকার (পিপিএম) স্থাপন ও  পেরিপাইরাল এনজিওগ্রামের কাজও চলত ওই মেশিনে। মেশিনটি অচল হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েন হৃদরোগীরা। 
সূত্রমতে, সপ্তাহ ধরে অচল হয়ে পড়া এনজিওগ্রাম মেশিনটি জাপানের শিমার্জু ব্র্যান্ডের। এটির দাম প্রায় ৬ কোটি টাকা। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চমেকের চুক্তি অনুযায়ী মেশিনটির ওয়ারেন্টি আছে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। কিন্তু ওয়ারেন্টি শেষ হওয়ার আগেই মেশিনটি অচল হয়ে পড়ল। এই অবস্থায় হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি থাকা মুমূর্ষু রোগীদের পরীক্ষা করাতে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে স্বজনদের যেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, তেমনি তাদের খরচও বাড়ছে।

দুই সপ্তাহ আগে চমেকের হৃদরোগ বিভাগে এনজিওগ্রাম করলে আকমল আলীর হার্টে দুটি ব্লক ধরা পড়ে। সংশ্লিষ্ট চিকিসকেরা পরে তার হার্টে রিং পরানোর পরামর্শ দেন। দিনমজুর ছেলে রবিউলকে নিয়ে গত ১০ জানুয়ারি সকালে হার্টে রিং পরাতে চমেক হাসপাতালে আসেন তিনি। কিন্তু হাসপাতালে এসে এনজিওগ্রাম মেশিন নষ্ট থাকার কথা শুনে হতাশ হয়ে পড়েন ফটিকছড়ির এই বাসিন্দা। তার ছেলে রবিউল বলেন, নামমাত্র টাকা দিয়ে বাবার হার্টে রিং পরাতে এসেছি হাসপাতালে। বেসরকারি হাসপাতালে রিং পরাতে হলে অনেক টাকার দরকার। সেই টাকা কোথায় পাব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত