পাচারকারীর কাছ থেকে স্বর্ণ ছিনতাই ৩ পুলিশ গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৪৩ এএম

খুলনায় স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাচারকারীকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে খুলনা নগরীর লবণচরা থানা-পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

গতকাল শনিবার গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুুলিশের উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন সদস্য ও পাচারকারীকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লবণচরা থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নগরীর লবণচরা থানার এসআই, মো. মোস্তফা জামান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আহসান হাবীব, কনস্টেবল মুরাদ হোসেন ও নগরীর খালিশপুর এলাকার স্বর্ণ পাচারকারী ব্যাসদেব দে।

এসআই মো. মোস্তফা জামানের বাড়ি যশোর, এএসআই আহসান হাবীবের বাড়ি বাগেরহাট ও কনস্টেবল মুরাদ হোসেনের বাড়ি সাতক্ষীরায়।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দায়িত্ব পালনকালে নগরীর লবণচরা থানার সাচিবুনিয়া বিশ্বরোড মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে এসআই মোস্তফা জামান ও সহকর্মীরা জানতে পারেন, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি বাসে অবৈধ স্বর্ণের বার নিয়ে একজন ব্যক্তি খুলনা মহানগরীতে প্রবেশ করবে। কিন্তু এই তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এসআই মোস্তফা জামান এএসআই আহসান হাবিব ও কনস্টেবল মুরাদ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশ করে চেকপোস্ট পরিচালনা করেন। তারা সাচিবুনিয়া বিশ্বরোড মোড় এলাকার রূপসা সেতু থেকে জিরো পয়েন্টগামী মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটির সামনে পাকা রাস্তার ওপর চেকপোস্ট বসান। এ সময় পুলিশ দেখে এক ব্যক্তি টুঙ্গিপাড়া পরিবহনের বাস থেকে নেমে দ্রুত হেঁটে যেতে থাকেন। তখন পুলিশ সদস্যরা তাকে দাঁড়ানোর জন্য বললে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। দুপুর ২টার পর পুলিশ সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তাকে পালানোর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তার কাছে সোনার বার আছে বলে স্বীকার করেন। এরপর আসামি ব্যাসদেব দে পরনের জিনসের প্যান্টের বেল্টের নিচের বর্ডার কেটে বানানো গোপন পকেট থেকে বের করে খাকি স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ৬টি বার এসআই মোস্তফার হাতে দেন। এরপর পুলিশ সদস্যরা আসামি ব্যাসদেব দেকে ভয় দেখিয়ে ৩টি বার নিয়ে নেন এবং বাকি ৩টি স্বর্ণের বারসহ ব্যাসদেবকে ছেড়ে দেন। ছিনতাই করা তিনটি স্বর্ণ বারের মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, পরে বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানতে পারেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই তিন পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। এরপর তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় সোনার বারসহ ধরা পড়া ব্যাসদেব আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে লবণচরা থানায় এসআই মোকলুসুর রহমান বাদী হয়ে চোরাচালান ও দস্যুতার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন।

লবণচরা থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, গতকাল শনিবার অভিযুক্তদের আদালতে সোপর্দ করার পর বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা জানার জন্য অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের হেফাজতে আনার আবেদন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক না কেন, অথবা অপরাধীর পরিচয় যাই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে কেএমপি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুলিশ বিভাগ বহন করে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত