বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুসলিমপ্রধান দেশের একজন নারী হয়ে পাঁচবার দেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া অনেক দেশের পছন্দ নয়। স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও বাংলাদেশের ওপর অনেক দেশের কুদৃষ্টি রয়েছে। কাজেই এখানে বসে অন্য দেশের ওপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাবে, এয়ার অ্যাটাক চালাবে, সেটা আমি মেনে নেব না।’
গতকাল শনিবার টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
টুঙ্গিপাড়ায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তার নিজ নির্বাচনী এলাকার (গোপালগঞ্জ-৩) নেতাকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভা করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি, স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি আরও বলেন, ‘এই ষড়যন্ত্র দুই ভাগে বিভক্ত। এক হচ্ছে খুনি বা অপরাধী, যুদ্ধাপরাধী; যাদের বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে, তারা ষড়যন্ত্র করছে। আরেকটি আন্তর্জাতিক স্তরের।’ তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে চক্রান্ত ছিল আমাকে আসতে দেবে না। তাদের হুকুমের দাস এমন কাউকে বসাবে। তারপর এ দেশটাকে নিয়ে খেলতে পারবে। বাংলাদেশের জনগণ তার ভালো জবাব দিয়েছে।’
শেখ হাসিনা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা স্বাধীন এবং সার্বভৌম দেশ, আমরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করব, আমরা আকারে ছোট হতে পারি, কিন্তু আমাদের বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে, তারাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।’
তড়িঘড়ি সরকার গঠন করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে এর জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, ‘তড়িঘড়ি করার কিছু নাই। সরকারে গেলে কী করব আর বিরোধী দলে গেলে কী করব, তার সবকিছুই চূড়ান্ত করা ছিল। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা এক দিনও সময় নষ্ট করতে চাই না।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচন করবে না, এটা আমরা জানি। কারণ তারা যে নির্বাচন করবে তাদের নেতা কোথায়? একজন দুর্নীতি আর এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে সাজাপ্রাপ্ত আরেকজন অর্থ পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলায়। এই যে দুর্নীতি আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই খুঁজে বের করেছে। তাদের (এফবিআই) গোয়েন্দার সাক্ষীতেই কিন্তু তারেক জিয়ার সাজা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার শেষ জীবনে গ্রামে এসে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমি গ্রামে এসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়াব, ভ্যানে করে ঘুরব। ঢাকা শহরে তো আমার বাড়িঘরও নেই।’ গতকাল বিকেলে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এমন ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।
রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষ যাতে স্বস্তিতে থাকতে পারে, সে জন্য নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের সঙ্গে গতকাল অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। টুঙ্গিপাড়ায় তার নিজ বাসভবনে এই বৈঠক হয়। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, এটি একটি অনানুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের প্রথমে তাদের মন্ত্রণালয়ের সার্বিক বিষয়ে তথ্য জানার জন্য নির্দেশ দেন। শেখ হাসিনা দেশ ও জনগণের জন্য কল্যাণকর যেকোনো প্রকল্প গ্রহণের সময় মন্ত্রীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন।
সচিব জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পবিত্র রমজান ঘনিয়ে আসছে, তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ, এই মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ানো উচিত নয়।
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শ্রদ্ধা : টানা চারবার সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল দুপুরে দুদিনের সফরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় এসেছেন। গণভবন থেকে সড়কপথে সকাল ৯টার কিছু পরে রওনা হয়ে দুপুর ১২টায় তিনি টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান। টুঙ্গিপাড়া পৌঁছেই তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে নবনির্বাচিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
এদিন দেশের বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও জাতির পিতার সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ নির্বাচনী এলাকা টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই জাতির পিতার সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স এলাকায় এসে হাজির হতে থাকেন তাদের প্রিয় নেত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য।
প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় রাত্রিযাপন করবেন এবং আজ রবিবার বেলা আড়াইটায় কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং বিকেলে তিনি সড়কপথে কোটালীপাড়া ত্যাগ করবেন।
