যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে ডাকযোগে আসা যেসব ভোট (পোস্টাল ভোট) গণনা হয়েছিল, সবগুলোই ছিল ডলার দিয়ে কেনা।
এক প্রতিবেদনে পুতিনের এই ভাষ্য তুলে ধরেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মঙ্গলবার পুতিন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ (প্রেসিডেন্ট) নির্বাচনে ডাকযোগে আসা ভোটগুলোতে কারচুপি হয়েছিল। তারা (ডেমোক্রেটিক পার্টি) প্রতিটি ব্যালট ১০ ডলারে কিনে তা নিজেরা পূর্ণ করে মেইলবক্সে জমা করেছিল এবং বিভিন্ন কৌশলে এই ব্যাপারটিকে তারা পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টির আড়ালে রাখতে সফল হয়েছিল। এটাই সত্য।’
প্রসঙ্গত, ওই নির্বাচনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করে নতুন প্রেসিডেন্ট হন ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা জো বাইডেন এবং ভোটের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর পরই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্পই প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি নির্বাচনে পরাজিত হয়ে ভোট কারচুপির অভিযোগ আনেন।
এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট হন রিপাবলিকান পার্টির নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ডেমোক্রেটিক পার্টি অভিযোগ তোলে, রাশিয়ার সহায়তায় গোপনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনে জিতেছিলেন ট্রাম্প।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। মস্কোও সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছিল— এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে রাশিয়ার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
এদিকে এবছরই যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। নির্বাচনপূর্ব সব জরিপে এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্প। কিন্তু ট্রাম্পকে নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে আইনি লড়াইতেও নামতে হচ্ছে। ট্রাম্প শিবিরের অভিযোগ, রিপাবলিকানদের এই নেতাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে ব্যবহার করছে ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট দল ও প্রেসিডেন্ট বাইডেন।
