স্বর্ণ খুঁজেও গরিব তারা

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:০০ এএম

সেনেগালের দক্ষিণ-পূর্বের কেদুুগউ এলাকায় স্বর্ণখনিতে কাজ করছেন মানুষ। এখানে কাজ করতে আসা পুরুষরা এসেছেন সেনেগাল ছাড়াও মালি, বুরকিনা ফাসো এবং গিনি থেকে। খনি থেকে যত স্বর্ণ উত্তোলিত হয় তার বেশিরভাগই চলে যায় বিদেশে। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রায় ৯০ শতাংশ উত্তোলিত স্বর্ণ বাইরে চলে যায়। 

 সেনেগালের কেদুগউ গ্রামটি অন্যতম দরিদ্র একটি অঞ্চল। এখানে আফ্রিকার প্রায় ২০টি দেশের মানুষ কাজ করে। এখানে তারা আসে ভাগ্য ফেরাতে। এসব মানুষ সেনেগাল ও মালির মাঝ দিয়ে বয়ে চলা ফালেমি নদীর তীরে সোনা খোঁজে। মালি ও গিনির মানুষের কাছে স্বর্ণ খোঁজা নতুন কোনো কাজ নয়। তবে এখন মানুষ কৃষিতে নিম্ন আয়ের কারণে ছোটখাটো খনির দিকে মনোনিবেশ করে।

ফালেমি নদীর পানি ছিল এক সময় স্বচ্ছ। কিন্তু এখন তা কর্দমাক্ত রঙে অনেকটা কমলা রঙ ধারণ করেছে। মানুষ মাটি খুঁড়ে বের করে আনে স্বর্ণের দানা। কিন্তু আশ্চর্য বিষয় হচ্ছে, স্বর্ণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাতু উত্তোলন করেও এসব মানুষ ভাগ্য ফেরাতে পারছে না। অন্য জায়গায় কর্ম হারিয়ে স্বর্ণ খুঁজতে আসছে মানুষ। যেসব এলাকায় দারিদ্র্য বেশি সেখানেই বরং মানুষ স্বর্ণখনির আয়ের ওপর নির্ভর করছে। কেদুগউয়ের একজন বলছেন, এখানে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে মাস্টার্স পাস করা তরুণকেও।

কানাডিয়ান একটি স্বর্ণ কোম্পানির খনিতে কাজ করতে এসে সংঘাতে জড়িয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুজন মারাও যান। খনিতে কাজে নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায় দুই দল।

সারায়া নামের একটি গ্রামের কমিউনিটি রেডিও স্টেশনের পরিচালক মোহাম্মদি দানফাখা বলেন, ‘সারায়া শহরের কয়েক কিলোমিটার পরেই কোনো বিদ্যুৎ সুবিধা দেখা যাবে না। মানুষের বোধ হলো, রাষ্ট্র মানুষের দিকে চোখ তুলে তাকাতে ভুলে গেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত