করোনায় করণীয়

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:৪৬ এএম

আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে করোনার নতুন ধরনের আক্রমণ শুরু হওয়ায় আবার টিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, সমাজে যেসব পেশার মানুষ বেশি পরিমাণে জনগণ-সংশ্লিষ্ট, তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আশার কথা হচ্ছে, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের নতুন উপধরন জেএন.১-এর সংক্রমণ বাড়লেও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন ভ্যারিয়েন্ট জেএন.১-কে এখনো উদ্বেগজনক আখ্যা দেয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, জেএন.১ সব এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, কারণ এর একটি অতিরিক্ত স্পাইক প্রোটিন রয়েছে। এ বিষয়ে শুক্রবার দেশ রূপান্তরে ‘ফের চালু হচ্ছে করোনার টিকা’ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। জানা যাচ্ছে, দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবার করোনার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য শিগগির দেশ জুড়ে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ডোজ দিতে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এ দফায় টিকার ক্ষেত্রে সম্মুখ সারির স্বাস্থ্যকর্মী, ৬০ বছর এবং এর বেশি বয়সী জনগোষ্ঠী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ১৮ বছর এবং তার চেয়ে বেশি বয়সী জনগোষ্ঠী, স্বল্পরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী) জনগোষ্ঠী এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর আটটি কেন্দ্রে তৃতীয় ও চতুর্থ ডোজ হিসেবে ভিসিভি টিকা দেওয়া হবে। এটি জেএন.১-সহ সব ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকর।

এটিকে ‘ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট’ শ্রেণিভুক্ত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। নতুন ভ্যারিয়েন্টের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। নতুন যে ভ্যারিয়েন্টটা দেখা যাচ্ছে, সেটার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা আগের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের থেকে অনেকটাই বেশি। তবে এই ভ্যারিয়েন্টের ধার অনেকটাই কম, খুব বেশি যে অসুস্থ করে ফেলতে পারবে, তা নয়। কভিড প্রতিরোধে বর্তমানে যেসব টিকা চালু আছে সেটি দিয়েই এই উপধরনের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা মিলবে। প্রাথমিকভাবে মহাখালীর ডিএনসিসি কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নয়াবাজারে ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালে এই টিকা পাওয়া যাবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়, টিকা নিতে প্রত্যেককে টিকার কার্ড সঙ্গে আনতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, আগামী ২ বছর আড়াই কোটি মানুষকে করোনা টিকার চতুর্থ ডোজ দেবে সরকার। এর মধ্যে এ বছর পাবে ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষ ও বাকি ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষ পাবে আগামী বছর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাতে এখনো করোনার কিছু টিকা আছে। ফাইজারের এই টিকা করোনার নতুন ধরন জেএন.১-এর বিরুদ্ধেও কার্যকর। কাজেই ফ্রন্টলাইনার যারা, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি যাদের প্রতিনিয়ত জনসমাগমে যেতে হয়, তারা চাইলেই করোনাভাইরাসের টিকার চতুর্থ ডোজ নিতে পারেন। টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে এপ্রিল মাসে। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন-গ্যাভির কাছে টিকার চাহিদা দেওয়া হয়েছে। তারা টিকা সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে। আড়াই কোটি মানুষ এই টিকা পাবে। বর্তমানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ফলে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে। সেই সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। যদিও এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ডা. ক্ষেত্রপাল বলছেন, ‘যেহেতু শীতকালে ছুটিতে মানুষ বেশি ভ্রমণ করে, তাই ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে তাদের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া সবার আগে জরুরি।’

এই ধরনটি আসলে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের উপধরন বা সাব ভ্যারিয়েন্ট বিএ.২.৮৬ উপধরন থেকে উদ্ভূত। জেএন.১ খুব উদ্বেগ জাগানিয়া কোনো ভাইরাস নয়। যদিও করোনাভাইরাসের এই ধরনটির ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা ব্যাপক। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, জেএন.১-এর জন্য আলাদা কোনো টিকার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে বাজারে যেসব টিকা রয়েছে, এই ভ্যারিয়েন্টটি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতে সেগুলোই যথেষ্ট। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই সংক্রমণ রোধ এবং ভয়াবহ আক্রমণের ক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ দিয়েছে। তা হলো জনবহুল এলাকাগুলোতে মাস্ক পরতে হবে, হাঁচি-কাশির সময় মুখ বন্ধ রাখতে হবে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে, নিয়মিত হাত পরিষ্কার করতে হবে, কভিড ও ফ্লু টিকা সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট খবর রাখতে হবে, অসুস্থ হলে বাসায় থাকতে হবে এবং লক্ষণ দেখা দিলে পরীক্ষা করাতে হবে। এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে, সচেতনতা। ব্যক্তির পাশাপাশি সরকারকেও এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা জরুরি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত