৩ বছরে ১ ছটাক ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য দপ্তর

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:০৭ এএম

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ৩ বছরে ১ ছটাক ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি উপজেলা খাদ্য দপ্তর। প্রতি বছরই দপ্তর বোরো ও আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করে দিলেও তা করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। ফলে বছরের পর বছর ধান সংগ্রহ না করেই চলছে দপ্তরের কার্যক্রম। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বাজারে বেশি দাম পাওয়ায় উপজেলা খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করছেন না তারা।

উপজেলা খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আমন ধান সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে; যা গত ১ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। চলতি মৌসুমে আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২৩৬ টন। প্রতি কেজি ধানের দাম ধরা হয়েছে ৩০ টাকা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ধান সংগ্রহ করতে পারেনি। এর আগে গত বোরো মৌসুমেও কোনো ধান সংগ্রহ করতে পারেনি দপ্তরটি। এ নিয়ে ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বোরো ও আমন কোনো মৌসুমেই ধান সংগ্রহ করতে পারছে না উপজেলা খাদ্য দপ্তর। তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে এরই মধ্যে অনলাইনে আবেদনের জন্য মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ নানা প্রচারণা চালাচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় বাজারে দাম বেশি থাকায় সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো কৃষকই অনলাইনে আবেদন করছেন না। তাই ধানও সংগ্রহ করতে পারছে না তারা।

উপজেলার ঘোরলাজ মহল্লার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গুদামের চেয়ে বাজারে ধানের দাম বেশি তাই কৃষকরা গুদামে ধান দেন না। আবার বাজারে ধান বিক্রি করতে কোনো ঝামেলা নেই, নিয়ে গেলেই বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু গুদামে ধান দিতে গেলে ভালো করে রোদে শুকানো, একেবারে ঝরঝরা হতে হবে। এসব নানা কারণে মানুষ গুদামে ধান দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। উপজেলার মালঞ্চি বাজারে ধান ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন বলেন, গুদামের চেয়ে বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকদের খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির আগ্রহ নেই। কৃষকরা যেখানে ধানের দাম বেশি পাবেন, তারা সেখানেই ধান বিক্রি করবেন। এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণক কেএম মামুনুর রহমান জানান, বাজারমূল্যের চেয়ে সরকারনির্ধারিত দাম কম হওয়ায় তাদের কাছে ধান দিচ্ছেন না কৃষকরা। সরকারনির্ধারিত দাম যদি বাজরের চেয়ে বেশি হতো, কৃষকরা অবশ্যই গুদামে ধান  দিতেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত