রাম মন্দির উদ্বোধনে মোদির বন্দনা

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:১৭ এএম

‘২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারির সূর্য নতুন আভা নিয়ে উঠেছে। এই দিন ক্যালেন্ডারে নিছক একটা তারিখ নয়, এক কালচক্রের সূচনা হয়ে থাকবে।’ গতকাল সোমবার উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির পক্ষে গোটা বিশে^র কণ্ঠস্বরগুলো মনে করে, সত্যি সত্যি ভারতের মাটিতে নতুন এক যুগের সূচনা হলো, যেখানে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ঢেউ সারা ভারতে প্রতিটি কোনায় কোনায় গিয়ে আছড়ে পড়ল।

গতকাল জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গেরুয়া রঙে রাঙানো অযোধ্যা শহর পরিপূর্ণভাবে হিন্দু নগরীর তকমা কুড়িয়ে নিল আর চারদিকে মোদির বন্দনা দেখা গেল। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে আরও এক দফা ক্ষমতার হাওয়া নিজেদের দিকে টানতে এই রাম মন্দিরকেই আশ্রয় করছে বিজেপি, যা ছিল দলটির কয়েক দশকের রাজনীতির অন্যতম বড় কর্মসূচি। নরেন্দ্র মোদির প্রতিটি কথায় ছিল হিন্দুত্বের আবেগ। বক্তব্যে তিনি রামের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘উপাসনায় আমাদের কিছু কমতি থাকতে পারে। এত দিন আমরা রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। এবার সেই কাজ শেষ হলো। আশা রাখি, প্রভু রাম ক্ষমা করবেন।’

হেলিকপ্টারে চড়ে অযোধ্যায় আসার পর গতকাল বেলা ১১টার দিকে ঘিয়ে রঙা পাঞ্জাবির সঙ্গে ধুতি-জ্যাকেটে কেতাদুরস্ত মোদি মন্দির চত্বরে প্রবশে করেন। পুজোর সামগ্রী নিয়ে সাধু-পুরোহিতদের নিয়ে তিনি ধীর পায়ে মন্দিরের গর্ভগৃহের দিকে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত, উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দিবেন প্যাটেল এবং রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এরপর শুরু হয় ‘শিশু রাম’ তথা ‘রামলালার’ পূজা-অর্চনা। পঞ্চপ্রদীপ জ্বালিয়ে প্রধানমন্ত্রী রামের আরতি করেন।

রামলালার মূর্তিতে ‘প্রাণপ্রতিষ্ঠা’র পর মোদি বললেন, ‘ভারত এবার আগে যাবে। এই সময়ের অপেক্ষা ছিল। উন্নতির সর্বোচ্চ উচ্চতায় যেতেই হবে।’ এ সময় বিরোধীদের প্রতি রাম মন্দির ইস্যুতে ‘সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার’ ডাক দেন তিনি।

মন্দির উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে মোদির উন্নয়ন কর্মকা-ের ফিরিস্তি তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেন, ‘মোদি বিশে^র সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রনেতা।’ তিনি মোদির শাসনামলে অযোধ্যার কী কী উন্নতি হয়েছে তার ব্যাখ্যা দেন। সগর্বে ঘোষণা করেন, যেখানে প্রতিজ্ঞা করা হয়েছিল, সেখানেই বানানো হয়েছে মন্দির।

মোদির কথা বলতে গিয়ে রামের জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সহসভাপতি গোবিন্দদেব গিরি কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘৩ দিন ব্রত পালনের নির্দেশ দিলেও মোদি ১১ দিন উপবাসে থেকেছেন। ৩ দিন নয়, ১১ দিন ভূমিতে শয়ন করেছেন। তিনি তপস্বী রাষ্ট্রপ্রধান।’ 

‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত অযোধ্যায় রামের মাহাত্ম্য ঘোষণা করে মোদি বলেন, ‘আমাদের রামলালা আর ছাউনিতে থাকবেন না। আমাদের রামলালা দিব্য মন্দিরে থাকবেন। আমার বিশ্বাস, এই ঘটনা দেশের ও বিশ্বের কোণে কোণে রামভক্তদের বিশ্বাস জোগাবে।’

নব্বইয়ের দশকে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলে হিন্দু করসেবকরা। এরপর ওই জায়গায় রাম মন্দির হবে কি না, তা নিয়ে শুরু হয় আইনি লড়াই। পরে ভারতের শীর্ষ আদালত মন্দির নির্মাণের জন্য নির্দেশনা দেয়। গতকালের অনুষ্ঠানে মোদি দাবি করেন, কোনো জবরদস্তির মাধ্যমে মন্দির নির্মিত হয়নি। এ নিয়ে মোদি বলেন, ‘ন্যায়ের পথেই রামের ভূমি পেয়েছি আমরা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত