মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৫৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রায় সব আইনপ্রণেতা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। সিনেটররা স্বাধীন ইসরায়েল রাষ্ট্রের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থনের কথা জানান। কক্ষের ৫১ সদস্যবিশিষ্ট ডেমোক্র্যাট ককাসের ৪৯ জনই এই প্রস্তাবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। এদিকে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ এনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দায়ের করা দক্ষিণ আফ্রিকার মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) আজ শুক্রবার জরুরি সিদ্ধান্ত  ঘোষণা করবে। সিনেটের ৪৯ জন ডেমোক্র্যাট একটি সংশোধিত প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন যেখানে ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে আলোচনার পথকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের রাষ্ট্রের পাশে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর রাষ্ট্রীয় সত্তা অর্জনের বৈধ অধিকারের প্রতি ডেমোক্র্যাট শিবিরের সমর্থন ঘোষণা করা হয়।

ইউক্রেন, ইসরায়েল এবং তাইওয়ানকে জাতীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা দেওয়া নিয়ে একটি আসন্ন বিলের সংশোধনী প্রস্তাবের পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক সিনেটর ব্রায়ান স্ক্যাটজ ওই প্রস্তাব আনেন। এতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থনের কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্ক্যাটজ বলেন, ‘একটি আশাবাদী হওয়ার পরিস্থিতি রয়েছে কি না, তার ওপর নির্ভর করে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ। এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই হচ্ছে সেই আশার জায়গা।’ প্রস্তাবে সমর্থন না দেওয়া দুই ডেমোক্র্যাট সিনেটর হলেন- জন ফ্যাটারম্যান এবং জো ম্যানচিন।

গাজা যুদ্ধের নৃশংসতায় এখনো ইতি টানেনি ইসরায়েল। এরই মধ্যে প্রায় চারমাসব্যাপী যুদ্ধে ২৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির প্রাণহানি হয়েছে। হামাস নির্মূলের কথা বলে পরিচালিত এই অভিযানে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সম্প্রতি বলেছেন, তার দেশ দুই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমাধান সমর্থন করে। গাজায় অব্যাহত প্রাণহানির মধ্যে পশ্চিমা বিশে^ ইসরায়েলের অনেক মিত্রও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিচ্ছেন।

কিন্তু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কয়েক দিন আগে বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টিকারী ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি তার সমর্থন নেই। অবশ্য, তার এই বক্তব্য পশ্চিমা বিশে^র অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

এদিকে , ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আদেশ দেওয়া হবে কি না, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) আজ শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ আদালতের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নালেডি পান্ডর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ  শহরভিত্তিক আদালতে উপস্থিত থাকবেন।

জাতিসংঘের এই শীর্ষ আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো মামলায় প্রাথমিক শুনানির পর জরুরি নির্দেশ জারি করে আদালত। আর চূড়ান্ত রায় হতে কয়েক বছর পর্যন্ত শুনানি হয়। আজ জরুরি সিদ্ধান্তই দেবে আদালত।

দক্ষিণ আফ্রিকা গত ডিসেম্বরে আইসিজেতে মামলাটি দায়ের করে। চলতি মাসের শুরুর দিকে আইসিজেতে দুদিনের শুনানি হয়। শুনানিতে দক্ষিণ আফ্রিকা আবেদন জানায়, আদালত যেন ইসরায়েলকে গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধের নির্দেশ দেয়। গণহত্যা সনদ অনুযায়ী ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আদালতের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ ঘোষণা করা জরুরি বলে দাবি করে দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ আফ্রিকা আদালতে আর্জি পেশ করেছে, গাজায় যেন সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করা হয় এবং উপত্যকায় মানবিক সহায়তা সরবরাহের পথ স্বাভাবিক রাখা হয়। সব মিলিয়ে আদালতের কাছে ৯টি আর্জি জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

ইসরায়েল প্রায়ই আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ও জাতিসংঘের তদন্তগুলোকে পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করে। 

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আইনি সংস্থা হচ্ছে আইসিজে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত এই আদালত দুদেশের মধ্যে বিরোধ মেটাতে পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। তবে আদালত তার রায় প্রয়োগ করতে জোর খাটাতে পারে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত