খুলনার জয়ের ‘হ্যাটট্রিক’ হার সিলেটের

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৯ এএম

ঢাকা পর্বে টানা দুই ম্যাচ জিতেছিল খুলনা টাইগার্স। তাতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে সিলেটে গিয়েছিল তারা। সেখানে গিয়েও টাইগার্সের গর্জন অব্যাহত আছে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এনামুল হক বিজয়ের দলটি ২৮ রানে হারিয়েছে রংপুর রাইডার্সকে। টুর্নামেন্টে যা তাদের হ্যাটট্রিক জয়।

১৬১ রানের জবাবে শেষ দুই ওভারে রংপুরের প্রয়োজন ছিল ৩৭ রান, হাতে ১ উইকেট। কাজটা অনেক কঠিন, এরপরও রংপুরকে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন ২৬ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকা মোহাম্মদ নবি। তবে মোহাম্মদ ওয়াসিমের করা ইনিংসের ১৯তম ওভারের প্রথম বলে ছক্কা মারলেও সেই ওভারের চতুর্থ বলে আউট হন নবি।

আগে ব্যাট করে খুলনা টাইগার্স ১৬০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল। পাওয়ার প্লেতে নিজেদের গর্জন ঠিকমতো শোনাতে পারেননি খুলনার ব্যাটসম্যানরা। অধিনায়ক এনামুল হক বিজয় ৭ বল খেলে আউট হয়েছেন রানের খাতা খোলার আগেই। মাহমুদুল হাসান জয় ও আফিফ হোসেন নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারেননি। ঘরের ছেলেদের যাওয়া-আসায় দ্রুতই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা জেগেছিল। তবে দেশিরা ব্যর্থ হলেও বিদেশিরা ঠিকই মেলে ধরেছেন। মোহাম্মদ নাওয়াজ (৫৫) ও দাসুন শানাকার (৪০) ব্যাটে ভর করে লড়াইসম পুঁজি পায় দলটি। হাসান মাহমুদ তিনটি ও শেখ মেহেদি নেন দুটি করে উইকেট। বল হাতে ২১ রান দিলেও উইকেটশূন্য থাকেন সাকিব আল হাসান।

মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি রংপুরের। ওয়াসিম জুনিয়রের বলে দলীয় ৬ রানেই হারায় বাবর আজমের উইকেট। এরপর বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি ব্র্যান্ডন কিং। মোহাম্মদ নাওয়াজের ফুলার লেংথের বলে লাইন মিস করে বোল্ড হয়েছেন তিনি। মাত্র ১১ রানে ২ উইকেট হারে ধুঁকতে থাকা রংপুরের এক প্রান্ত আগলে রাখা রনি তালুকদারকে আউট করেছেন দাসুন শানাকা। লঙ্কান এই পেসারের বলে লং অফ দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ডাইভ দিয়ে দারুণ ক্যাচ নিয়ে ফেরান রনিকে। এরপর মোহাম্মদ নাওয়াজের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে নাহিদুল ইসলামের হাতে দারুণ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শামীম পাটোয়ারি। আজমতউল্লাহ ওমরজাই আউট হয়েছেন নাসুম আহমেদের বলে লং অফে ক্যাচ দিয়ে।

এরপর নুরুল হাসান সোহান রানআউট হন শানাকার সরাসরি থ্রুতে। চোখের সমস্যার কারণে আটে খেলতে নেমে ব্যর্থ হয়েছেন সাকিব আল হাসানও। তাকেও ফেরান শানাকা। রান তোলার চাপে দ্রুত আউট হয়েছেন শেখ মেহেদিও। শেষ দিকে ৫০ রান করা নবিকে বিদায় করে খুলনার জয় নিশ্চিত করেন ওয়াসিম জুনিয়র। খুলনার হয়ে শানাকা ৩ ওভার বল করে মাত্র ১৬ রান খরচায় নিয়েছেন ৪ উইকেট। তাতে ম্যাচসেরা হয়ে রাঙিয়েছেন ক্যারিয়ারের ২০০তম স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচটিও।

ম্যাচ হারের পর আলোচনায় উঠে এসেছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিবের আট নম্বরে নামা নিয়ে। তাকে শুধুই কেন একজন বোলার হিসেবেই, সেখানেও দলকে উইকেট এনে দিতে পারেননি। ব্যাট হাতে মাত্র ২ রানের বেশি করতে পারেননি। তবে দলটির কোচ সোহেল ইসলাম সাফাই গাইলেন সাকিবের পক্ষে।

আসরের শুরুর দুই ম্যাচে হারের বৃত্তে বন্দি সিলেট স্ট্রাইকার্স নিজেদের বাড়ি ফিরেও পড়েছে চরম অস্বস্তিতে। ঘরের মাঠে প্রথম জয়ের জন্য ১৩১ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ১৬.২ ওভারে সিলেট গুটিয়ে গেছে মাত্র ৭৮ রানে।  ঘরের মাঠে এসেও কুমিল্লার কাছে তাদের হার ৫২ রানের ব্যবধানে।

দুই বুড়ো; একজনের বয়স ৪০, আরেকজনের ৪১। সামিত প্যাটেল ও মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। এ দুই বুড়ো ভেলকিতে কুপোকাত হতে হয়েছে আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে। টস হেরে আগে ব্যাট করে তারা করেছে ৮ উইকেটে ১৩০ রান।

সামিত প্যাটেল এদিন ৪ ওভারের স্পেলে উইকেট শিকার করেছেন ৩টি। বিনিময়ে রান দিয়েছেন ১৬। মাশরাফী কোনো উইকেট না পেলেও চার ওভারে দেন মাত্র ১৯ রান। সিলেটের জিম্বাবুইয়ান পেসার রিচার্ড এনগারাভা নেন দুই উইকেট।

শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করতে চাচ্ছিলেন কুমিল্লার ব্যাটাররা। একটা সময়ে ধারাভাষ্যকার বলেই বসেন, ‘মনে হচ্ছে ২৫০ রান করার জন্য নেমেছে কুমিল্লা।’ অতি তাড়াহুড়োয় উইকেটও পড়তে থাকে চোখের পলকে। সর্বোচ্চ ৩০ রান আসে ইমরুল কায়েসের ব্যাট থেকে। জাকের আলি করেন ২৯ রান। খুশদিল শাহর ব্যাট থেকে আসে ২১ রান।

সহজ রানের লক্ষ্যে শুরু থেকেই মুখ থুবড়ে পড়েন সিলেটের ব্যাটাররা। প্রথম ওভারে আসে মাত্র ১ রান। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই ফিরে যান মিথুন। খুব দ্রুতই তার পথ অনুসরণ করেন শান্ত, সামিত ও ইয়াসির। চার উইকেট হারিয়ে পাওয়ার প্লে শেষে সিলেটের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬ রান।

কাপ্তান মাশরাফীও ফেরেন শূন্যহাতে, প্রথম বলেই। অ্যালিস আল ইসলাম বাজিমাত করেন তার স্পিন দিয়ে। ৪ ওভারের টানা স্পেলে জোড়া উইকেট মেডেনসহ মাত্র ১৭ রানেই ৪ উইকেট শিকার করেন অ্যালিস। ২৮ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর সপ্তম উইকেট জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে সিলেট। জাকির আর রায়ান বার্ল মিলে গড়েন ৪০ রানের জুটি। ৩৪ বলে ৪১ রান করে জাকির ফেরার পর আর দাঁড়াতে পারেননি কেউ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত