ওসি মহসীনের কাছে ধরা ‘ওসি মহসীন’

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:৫১ পিএম

পড়ালেখা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। কাজ করেন গাইবান্ধা সদর থানার স্টেশন রোড এলাকার একটি প্রেস কর্মচারী হিসেবে। কিন্তু ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পারদর্শী হওয়ায় ও অনলাইনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে দেওয়ায় স্থানীয়দের কাছে ‘মাস্টার’ উপাধি পেয়েছেন। তার প্রকৃত নাম মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (৩০) হলেও কখনো ওসি, কখনো নায়ক বা জনপ্রতিনিধি সেজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে শতশত নারীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি।

আনোয়ার সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি (বর্তমানে তেজগাঁও থানায় কর্মরত) হিসেবে কাজ করা মোহাম্মদ মহসীন সেজে নারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেন। শুধু ওসি মহসীন সেজে তিনি ৭৭১ জন নারীর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে চ্যাটিং করেছেন। এদের একজন নারী আবার থানায় এসে প্রকৃত ওসি মহসীনের সঙ্গে দেখা করে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।

প্রকৃত ওসি মহসীন এ ঘটনায় বিব্রত হন এবং নিজেই বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে নেমে গাইবান্ধা জেলার সদর থানার স্টেশন রোডের দাশ বেকারি মোড়ের অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ভুয়া ওসি মহসীনের ওরফে আনোয়ারের খোঁজ পান তেজগাঁও থানার একটি বিশেষ টিম এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি কম্পিউটার, আইপি ক্যামেরা, রাউটার ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) লিটন কুমার সাহা শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আনোয়ার মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন প্রযুক্তিক বিষয় শিখে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন। স্থানীয় অনেকের ফেসবুক আইডির সমস্যা সমাধান করে দেওয়ায় তাকে 'মাস্টার' নামেও ডাকা হতো। আর এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ব্যক্তি, মন্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ছবি ব্যবহার করে হুবহু নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলতেন। এরপর নারীদের টার্গেট করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। ধীরে ধীরে তাদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিতেন। 

লিটন কুমার সাহা বলেন, আনোয়ারকে গ্রেপ্তারের পর তার কম্পিউটার ও মোবাইলে রাষ্ট্রপতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, তেজগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন, চিত্রনায়ক শান্ত খান, অভিনেতা ও মডেল আব্দুন নুর সজল, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে ফেসবুক আইডি পাওয়া যায়। এর মধ্যে কয়েকটি আইডি ডিজেবল পেলেও বাকিগুলো সচল অবস্থায় ছিল।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী স্বয়ং বর্তমানে তেজগাঁও থানায় কর্মরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার একটি আইডি রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন আইন, নিয়ম-কানুন এবং সর্তকতামূলক বিভিন্ন বার্তা দিয়ে থাকেন। তিনি যখন মিরপুর থানায় কর্মরত তখন একটি আইডি থেকে তারমতো মো. মহসীন নাম ব্যবহার করে একই রকম পোস্ট করা হতো। এ বিষয়ে তিনি মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর মধ্যে বদলী হন তেজগাঁও থানায়। এরমধ্যে পাঁচ থেকে সাতজন নারী তার সঙ্গে যোগাযোগ করে কথা কেন বলছেন না বলে জানান। পরে এ মাসে একদিন এক নারী তার থানায় চলে আসেন। পরে তিনি প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিকভাবে তিনি জানতে পেরেছেন যে, গ্রেপ্তার হওয়া আনোয়ার প্রায় ৭৭১ জন নারীর সঙ্গে ওসি মহসীন সেজে বিভিন্ন ধরনের চ্যাটিং করেছেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিভিন্ন সহযোগিতার জন্য প্রথমে আলাপ শুরু হলেও পরে সেটা প্রেম ও প্রতারণার মাধ্যমে টাকা নেওয়ার পর্যায় চলে যেত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত