পাকিস্তানে ধর্ষণে সাজার হার তিন শতাংশেরও কম

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩৯ পিএম

দারিদ্র্য, মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ায় ২০২৩ সালে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান। শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট ২০২৪’-এ বিষয়টি উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তান জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থেকে গেছে। বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি উষ্ণায়নের মুখোমুখি হয়েছে। এছাড়াও এশিয়ায় মানবাধিকারের মানদণ্ড রক্ষায় অর্থবহ আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এইচআরডব্লিউ বলছে, পাকিস্তানে গণমাধ্যমের ওপর সরকারের হুমকি ও হামলা সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে। অনেকে সেলফ-সেন্সরশিপের আশ্রয় নিয়েছে। এনজিও সংস্থাগুলোও রয়েছে নজরদারিতে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর নিবন্ধন ও কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করতেই এ ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটির সরকার। খবর এএনআইয়ের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্ষণ, হত্যা, এসিড হামলা, পারিবারিক সহিংসতা, শিক্ষা না পাওয়া, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি এবং বাল্যবিয়ে পুরো পাকিস্তানেই গুরুতর সমস্যা। মানবাধিকার কর্মীদের হিসাবে, প্রতি বছর প্রায় এক হাজার পাকিস্তানি নারী তথাকথিত ‘অনার কিলিং’-এ নিহত হন।

পাঞ্জাবে ২০২৩ সালের প্রথম চার মাসে ১০ হাজার ৩৬৫টি নারী নির্যাতন মামলা হয়েছে। সাংবাদিকতায় বাধা, সামাজিক রীতিনীতি এবং পুলিশের অকার্যকর ভূমিকার কারণে নারী নির্যাতনের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটিতে ধর্ষণের দায়ে সাজার হার তিন শতাংশেরও কম।

এছাড়া ৬০ লাখের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী শিশু এবং এক কোটি ৩০ লাখ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গামী শিশু স্কুলের বাইরে থেকে গেছে যাদের অধিকাংশই মেয়ে। এইচআরডব্লিউ বলছে, স্কুলের অভাব, ব্যয় নির্বাহ করতে না পারা, বাল্যবিয়ে, ক্ষতিকর শিশুশ্রম এবং লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে মেয়েরা স্কুলে যায় না।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত