ফেরেশতা এক বিস্ময়কর সৃষ্টি

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৪৬ এএম

ফেরেশতা শব্দটি ফার্সি। আরবিতে ফেরেশতাকে একবচনে মালাক আর বহুবচনে মালাইকা বলে। এর আভিধানিক অর্থ বার্তাবাহক। ফেরেশতা আল্লাহতায়ালার অন্যতম এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। তারা নিষ্পাপ ও পূত-পবিত্র। তারা সর্বদা আল্লাহর তাসবিহ ও ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থাকেন। তারা মহান আল্লাহর মহাসাম্রাজ্যের কর্মীবাহিনী। তারা নুরের তৈরি। তাদের মধ্যে স্ত্রী-পুরুষ ভেদ নেই। তাদের পানাহার, নিদ্রা ও বিশ্রামের প্রয়োজন হয় না। তাদের সংখ্যা অগণিত। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ তাদের প্রকৃত সংখ্যা জানে না। তাদের কোনো নিজস্ব মত ও কর্মসূচি নেই। তারা সাধারণত অদৃশ্য, তাদের কোনো আকার নেই। তবে তারা বিভিন্ন আকার ধারণ করতে পারেন। তারা আমাদের মতো রক্ত-মাংসের সৃষ্টি নন। তাদের কামনা-বাসনা, ক্ষুধা-তৃষ্ণা, নিদ্রা-তন্দ্রা কিছুই নেই। তারা সবসময় আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকেন। আল্লাহ যখন যা হুকুম করেন, তারা তাই পালন করেন। আল্লাহতায়ালা নবী-রাসুলদের প্রতি যেসব কিতাব নাজিল করেছেন, তা তাদের মাধ্যমে করেছেন। তারা বান্দার আমল লিপিবদ্ধ করেন এবং জান কবজ করেন। ফেরেশতাদের প্রকৃত সংখ্যা কেবল আল্লাহতায়ালাই অবগত আছেন। ইরশাদ হয়েছে, আপনার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন। -সুরা মুদ্দাসসির : ৩১

ফেরেশতাদের মধ্যে চারজন প্রধান ফেরেশতা আছেন। তারা মহান আল্লাহর আদেশে বিশেষ বিশেষ কাজে নিয়োজিত আছেন। যেমন- হজরত জিবরাইল (আ.), তাকে ফেরেশতাদের সরদার বলা হয়। তিনি নবী-রাসুলদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছানোর দায়িত্বে নিয়োজিত। হজরত মিকাঈল (আ.), তিনি সব জীবের জীবিকা বণ্টনের দায়িত্বে নিয়োজিত। হজরত ইসরাফিল (আ.), তিনি শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত। তিনি আল্লাহতায়ালার হুকুমের সঙ্গে সঙ্গে শিঙ্গায় ফুঁক দেবেন এবং তৎক্ষণাৎ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে, এরপর কেয়ামত কায়েম হবে। হজরত আজরাইল (আ.), তিনি সব জীবের জীবন বা রুহ কবজ করার দায়িত্বে নিয়োজিত। এছাড়া আরও কতিপয় ফেরেশতার কথা উল্লেখ আছে। যেমন- কেরামান কাতিবিন, যারা মানুষের ভালোমন্দ আমল লিপিবদ্ধ করেন, মুনকার ও নাকির, তারা মৃত্যুর পর কবরে প্রশ্ন করবেন। জাহান্নামের রক্ষক ফেরেশতার নাম মালিক এবং জান্নাতের জিম্মাদার ফেরেশতার নাম রিজওয়ান। কতিপয় ফেরেশতা নিয়োজিত আছেন আল্লাহর আরশ বহনের দায়িত্বে। একদল ফেরেশতা আছেন, যারা আল্লাহর জিকিরের মজলিসে মজলিসে ঘুরে বেড়ান। কিছু ফেরেশতা আল্লাহর সম্মানে সারাক্ষণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এমনিভাবে দুনিয়া ও আখেরাতের সব কাজ আঞ্জাম দেওয়ার জন্য আল্লাহর অগণিত ফেরেশতা রয়েছে। মানুষের মধ্যে বাধ্যতা ও অবাধ্যতা দুটি প্রবৃত্তিই রয়েছে। কিন্তু ফেরেশতাদের মধ্যে অবাধ্যতার কোনো প্রবৃত্তি নেই। তাদের সৃষ্টিগতভাবেই আল্লাহর অনুগত করা হয়েছে। আল্লাহর সৃষ্টি ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস রাখা ইমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেউ যদি ফেরেশতাদের প্রতি ইমান না রাখে তাহলে সে ইমানদার থাকে না। মহান আল্লাহ বলেন, যে আল্লাহ, তার ফেরেশতারা, তার কিতাবসমূহ এবং তার রাসুলদের ওপর বিশ্বাস রাখে না, সে পথভ্রষ্ট হয়ে বহুদূরে গিয়ে পড়বে। -সুরা আন নিসা : ১৩৬

ফেরেশতাদের প্রতি ইমান আনা ফরজ বা আবশ্যক। তাই আমরা মহান আল্লাহর ফেরেশতাদের প্রতি ইমান আনব এবং তাদের প্রতি যথাযথ ভালোবাসা পোষণ করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত