ধর্ষণের অভিযোগ তরুণীর

হাসপাতাল থেকে তুলে নিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান!

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:১৩ এএম

ধর্ষণের শিকার এক তরুণীকে (২৮) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থেকে ফিল্মি কায়দায় তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমদ তাকে ধর্ষণ করেছেন জানিয়ে গত শনিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ওই তরুণী। পরে গতকাল রবিবার বিকেল ৫টার দিকে হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) থেকে ছাড়পত্র নিয়ে অপেক্ষারত মা ও ভাইয়ের সামনে থেকে ২০-২৫ জন যুবক তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে চলে যায়।

এ সময় ওই মাইক্রোবাসকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায় আরও একটি প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে থাকা যুবকরা।

তরুণীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় হাসপাতালের ভেতরে থাকা লোকজন ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমদের চাচাতো ভাই ও রুদাঘরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী তৌহিদুজ্জামানকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৫টার দিকে ওসিসিতে পরীক্ষা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে ভুক্তভোগী তরুণী ওসিসির সামনে অপেক্ষারত তার মা ও ভাইয়ের কাছে যাচ্ছিলেন। এ সময় ওই তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠা ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমদের চাচাতো ভাই রুদাঘরা ইউপি চেয়ারম্যান গাজী তৌহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন যুবক সেখানে হাজির হয়। ওই যুবকরা তরুণীকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। এ সময় অপহরণকারীদের হাতে কয়েকজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত হন। একপর্যায়ে হাসপাতালের ভেতরে থাকা লোকজন রুদাঘরা ইউপি চেয়ারম্যান গাজী তৌহিদুজ্জামানকে আটক করেন। পরে তাকে দায়িত্বরত পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ওসিসির কো-অর্ডিনেটর ডা. সুমন রায় বলেন, ‘ভুক্তভোগী তরুণীর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিকেল ৫টার দিকে তার (ভুক্তভোগী) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মা ও ভাইয়ের হেফাজতে দেওয়া হয়। এর আগে ডুমুরিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেয়েটির জবানবন্দি নিয়েছেন। মেয়েটি জবানবন্দিতে বলেছেন, তিনি থানায় মামলা করতে ইচ্ছুক নন। তিনি থানার পরিবর্তে আদালতে মামলা করতে চান। থানায় মামলা করলে বিচার পাবে না বলে তার সন্দেহ রয়েছে। তাকে বলা হয়েছে, তার ভয়ের কোনো কারণ নেই। তার ডকুমেন্ট ওসিসিতে রয়েছে। এরপর তিনি তার ভাই ও মায়ের সঙ্গে চলে গেছেন। তবে বাইরে যাওয়ার পর কী হয়েছে সেটা আমি বলতে পারব না।’

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (সোনাডাঙ্গা) আবু নাসের মো. আল আমিন বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। গাজী তৌহিদ (জনতার হাতে আটক ইউপি চেয়ারম্যান) আমাদের হেফাজতে রয়েছেন।’

এর আগে গত শনিবার রাতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গাজী এজাজ আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন ওই তরুণী। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেক দিন ধরে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার। শনিবার রাত সোয়া ১১টার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি হন তিনি।

ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, মধুগ্রাম কলেজে পড়ার সময় উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু পরে বিয়ের কথা বললে টালবাহানা শুরু করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ বলেন, ‘এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

ডুমুরিয়া থানার ওসি সুকান্ত সাহা বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত কেউ থানায় এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত