সৌন্দর্য বৃদ্ধি-ড্রেন নির্মাণে ১০৮ গাছ কাটবে পৌরসভা!

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:১৬ এএম

১০৮টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হবিগঞ্জ পৌরসভা। পৌরসভা বলছে, সৌন্দর্যবর্ধন ও ড্রেন নির্মাণের কাজের জন্য এসব গাছ কাটা হবে।

শাহ এ এম এস কিবরিয়া পৌর মিলনায়তনের চারপাশে আকাশমণি, শিলকড়ই, মেহগনি, জলপাইসহ বিভিন্ন জাতের ৭০টি  গাছ কাটা পড়বে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য। স্থানীয়রা জানান, এসব গাছে পানকৌড়ি, শালিক, কোকিল, চড়ুইসহ নানা প্রজাতির পাখি বসতে দেখা যায়। গাছগুলোর বয়স প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর। এছাড়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের সামনের আরও ৩৮টি গাছ কাটা পড়বে। এ গাছগুলো কাটা হচ্ছে ড্রেন নির্মাণের প্রয়োজনে।

এ ব্যাপারে বন বিভাগ, মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী দিলীপ কুমার দত্ত গতকাল সোমবার বলেন, গাছ কাটার জন্য দরপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত ২৮ ডিসেম্বর পৌরসভা গাছগুলোর মূল্য ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকায় চূড়ান্ত করেছে। এখন কার্যাদেশ পেলেই গাছ কাটা শুরু করবেন ঠিকাদার। তিনি জানান, দু-একদিনের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতাকে এসব গাছ কাটার অনুমোদন দেওয়া হবে।

মিলনায়তনের কাছেই হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ। ওই মাঠে খেলা করে স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র শামসুল আবেদিন খান নাবিল। সে বলে, ‘প্রখর রোদে ওই গাছগুলোর ছায়ায় অনেকেই বিশ্রাম নেন। সকাল-বিকাল বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। সৌন্দর্য বৃদ্ধির নামে গাছগুলো কাটলে পরিবেশের পাশাপাশি পাখির আবাস নষ্ট হবে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখার সহসভাপতি ও হবিগঞ্জ সরকারি  মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জাহান আরা খাতুন বলেন, ‘জঙ্গলের নামে গাছ কেটে পৌরসভা কী এমন সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে তা বোধগম্য নয়। গাছ যেখানে পরিবেশ সুন্দর করে সেখানে গাছ কাটা কতটুকু যুক্তিসংগত এ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।’

গাছ কাটার কারণ সম্পর্কে হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আতাউর রহমান সেলিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিবরিয়া পৌর মিলনায়তনের দেয়ালের পাশ ঘেঁষে বেড়ে ওঠা গাছগুলো জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। তাই এগুলো কেটে পরিষ্কার করে মিলনায়তনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হবে। আর কিছু গাছ কাটা হবে ড্রেন নির্মাণের জন্য।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত