আয়ানের মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন হাস্যকর : হাইকোর্ট

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩৪ এএম

রাজধানীর বাড্ডায় ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খতনার পর পাঁচ বছরের শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় করা তদন্ত প্রতিবেদনকে হাস্যকর ও আইওয়াশ (লোক দেখানো) বলে আখ্যায়িত করেছে হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে প্রতিবেদনটি উপস্থাপনের পর এর ওপর শুনানিকালে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এমন মন্তব্য করে। আদালত দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা এবং অবহেলাজনিত মৃত্যুর বিষয় রোধ করতে একটি বিশেষ টিম কিংবা বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করে। সংশ্লিষ্ট আদেশের জন্য আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করে হাইকোর্ট।

এক রিট আবেদনের পর গত ১৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট আয়ানের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের প্রশ্নে রুলসহ ঘটনার তদন্ত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়। এর ধারাবাহিকতায় প্রতিবেদনের ওপর শুনানি হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ বি এম শাহজাহান আকন্দ মাসুম। ইউনাইটেড হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কুমার দেবুল দে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রতিবেদনটি পড়ে শোনানোর পর প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। আয়ানের ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা থাকা এবং নেবুলাইজার ও ইনহেলার ব্যবহারের পরেও তাকে অ্যানেস্থেসিয়া (সংবেদনহীন) করে অস্ত্রোপচার নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট। শুনানিকালে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কাছে আয়ানের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হয়েছে কি না, তা জানতে চায়। সদুত্তর না পেয়ে হাইকোর্ট বলে, ‘কোনো ডাক্তারই কাউকে মারতে চায় না। কিন্তু এখানে যা হয়েছে তা তো আমাদের জানতে হবে। সুরতহাল, ময়নাতদন্ত না হলে তদন্ত হবে কী করে?’

একপর্যায়ে আদালত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি সংস্থার উপপরিচালক ডা. পরিমল কুমার পালকে ডায়াসের সামনে ডেকে নেন। তিনি (অধিদপ্তরের উপপরিচালক) প্রতিবেদনের কিছু অংশ পড়ে শোনান।

তার উদ্দেশে হাইকোর্ট বলে, ‘ডাক্তারদের বলা হয় সারভেন্ট অব এভরিবডি। প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে শিশুটির অ্যাজমা আছে জেনেও কেন অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? যখন দেখা গেল সমস্যা আছে তখনই তো স্টপ করা (অস্ত্রোপচার না করা) উচিত ছিল। এখানে দেখা যাচ্ছে অবহেলা রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত