‘চীনপন্থী’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জুর বিরুদ্ধে সংসদে অভিশংসন প্রস্তাব আনতে চলেছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল মালদ্বীভিয়ান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এমডিপি)। এরই মধ্যে দলটির সংসদ সদস্যরা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব দেওয়ার জন্য বাকি সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সই সংগ্রহ করেছেন।
জানা গেছে, একটি চীনা ‘গুপ্তচর’ জাহাজকে রাজধানী মালের বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেওয়ার পরই বিরোধী দলগুলো চীনপন্থি অবস্থানের জন্য মুইজ্জুর ওপর চাপ প্রয়োগ শুরু করে। গত রবিবার (২৮ জানুয়ারি) মুইজ্জুর মন্ত্রিসভায় নতুন চার সদস্যের নিয়োগের অনুমোদনের বিষয়ে সংসদে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু সেদিন সংসদ কক্ষে সরকারদলীয় আইনপ্রণেতাদের প্রবেশে বাধা দেন বিরোধীরা। মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হলে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হবে বলে অভিযোগ তোলে বিরোধী দলগুলো। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে।
সহিংসতার পরই বিরোধীরা অভিশংসন প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নেন। এরই মধ্যে এমডিপি ও ডেমোক্র্যাটের প্রতিনিধিসহ মোট ৩৪ জন সংসদ সদস্য মুইজ্জুর বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাবে তাদের সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত বছরের নভেম্বরের নির্বাচনে ভারতবিরোধী অবস্থান নিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করে মালদ্বীপের ক্ষমতায় আসেন মোহামেদ মুইজ্জু। মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি মুইজ্জুর অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল।
সরকার গঠনের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সৈন্য ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বলেন মুইজ্জু। বিষয়টি নিয়ে ভারত-মালদ্বীপের মধ্যে মৌন দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদীর লাক্ষাদ্বীপ সফরের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ করেন মালদ্বীপের তিন মন্ত্রী। পরে তীব্র আপত্তি ও সমালোচনার মুখে ওই তিন মন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন মুইজ্জু। এরপরই মূলত দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিবাদ চরমে পৌঁছে।
এদিকে, ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যেই চলতি মাসে চীন সফরে যান মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট। চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পর আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারে দিল্লিকে সময়সীমা বেঁধে দেন মুইজ্জু।
মালদ্বীপের সংসদে এমপিদের কিল-ঘুষি, চুল টানাটানি!