জানুয়ারিতে করোনা বেড়েছে ৪ গুণ ডেঙ্গু কমেছে ৯ গুণ

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:৫৯ এএম

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে করোনা আক্রান্ত রোগী বেড়েছে চার গুণ। জানুয়ারিতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮৩০ জন। মারা গেছে ৫ জন। আগের মাস ডিসেম্বরে শনাক্ত রোগী ছিল ২০৬ ও মারা গেছে ৩ জন।

ডিসেম্বরে দৈনিক শনাক্ত রোগী ছিল ৬ জনের বেশি। সেই সংখ্যা জানুয়ারিতে বেড়ে প্রায় ২৭ হয়েছে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই সংক্রমণ বাড়তে থাকে। গত বছরের ডিসেম্বরে পরীক্ষা অনুপাতে সর্বনিম্ন শনাক্ত হার ১ শতাংশের নিচে ছিল ও সর্বোচ্চ হার ছিল মাসের শেষ দিন ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম দিনই আগের দিনের হার ছাড়িয়ে ৪ শতাংশে পৌঁছে যায়। এরপর বাড়তে বাড়তে শনাক্ত হার সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছিল। গত মাসে সর্বনিম্ন শনাক্ত হার ছিল এক দিন, ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বিশেষ করে মাসের শেষ সপ্তাহে শনাক্ত হার ৮-৯ শতাংশের মধ্যেই ওঠানামা করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

জানুয়ারিতে করোনা সংক্রমণ বাড়ার পেছনে করোনার নতুন উপধরন ‘জেএন.১’ দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে প্রথম পাঁচজনের শরীরে ‘জেএন.১’ উপধরন শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

বিশেষজ্ঞরা জানান, করোনার নতুন উপধরন দ্রুত ছড়ায়। তবে এই ধরনে আক্রান্ত রোগীদের জটিলতা দেখা দেয় না। হাসপাতালেও ভর্তিরও প্রয়োজন হয় না। অবশ্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য করোনার সব ধরনই আশঙ্কার।

গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ৫৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্ত হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

ডেঙ্গু কমেছে ৯ গুণ : শেষ হওয়া জানুয়ারিতে তার আগের মাস ডিসেম্বরের চেয়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ৯ গুণ কম ছিল। মৃত্যু কম ছিল ৬ গুণ। ডিসেম্বরে যেখানে দৈনিক গড়ে ৩০০ জন করে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, সেখানে জানুয়ারিতে তা কমে ৩৪ জনে নেমে আসে।

ডিসেম্বরে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৯ হাজার ২৮৮ জন ও মারা গিয়েছিল ৮৩ জন। জানুয়ারিতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৫। মারা গেছে ১৪ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জানুয়ারিতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল ও বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়েছে। কিন্তু বৃষ্টিপাত শুরু হলে সংক্রমণ আবারও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা নির্মূল করা যায়নি।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছে ১১ ও ঢাকায় ৯ জন।

জানুয়ারিতে ভর্তি রোগীর মধ্যে ৬৯৭ জন বা ৬৬ শতাংশই ছিল ঢাকার বাইরে। ঢাকায় ছিল ৩৫৮ জন বা ৩৪ শতাংশ। এ মাসে রোগীর ৬৪ শতাংশ ছিল পুরুষ। আর নারী ৩৬ শতাংশ।

জানুয়ারিতে মারা যাওয়া ১৪ জনের মধ্যে ঢাকায় ৮ ও ঢাকার বাইরে ৬ জন। মৃতদের ৯ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ। মৃত্যুহার ছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত