দেশ রূপান্তরে প্রতিবেদনের পর চিকিৎসা পাচ্ছেন তাসলিমা

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৫১ পিএম

পেটে সেলাই নিয়ে রাজধানীর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সামনে ফাঁকা জায়গায় মাটিতে শুয়ে কাতরাচ্ছিলেন তাসলিমা। এই নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দেশ রূপান্তর পত্রিকায় ‘সেলাই কাটাতে দ্বারে দ্বারে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে ভুক্তভোগী রোগীর বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তার চিকিৎসা শুরু হয়।

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে অসুস্থ তাসলিমা বেগম ওরফে তাসলিমা আক্তারের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, ওই নারীর স্বামী বা স্বজন নিয়মতান্ত্রিকভাবে হাসপাতালে যোগাযোগ না করায় একটি ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টির কারণে এটি হয়ে থাকতে পারে।

তাসলিমার স্বামী শাহ আলমের দাবি, তাসলিমা ক্যান্সারের রোগী। কিন্তু সে কিছু খেতে না পারার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে আমরা জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে শরণাপন্ন হই। পরে তারা পরীক্ষা করে তাসলিমা খাবার গ্রহণ করার জন্য পেটে একটি অপারেশন করে পাইপ ঢুকিয়ে দেয়। সেখানে ৫/৬দিন পর্যবেক্ষণে পর রিলিজ দেওয়া হয়। তখনও পেটের সিলি কাটা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ডাক্তার রিলিজ দেওয়ার দিন বলেছিলেন সেলাইটি স্থানীয় সরকারি কোনো হাসপাতাল থেকে কাটিয়ে নিতে। কিন্তু মাদারীপুরে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পর তার সেলাইয়ের জায়গা কেমন যেন হয়ে যায়। পরে সেখানে সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখালে তারা ঢাকায় যেখানে অপারেশন হয়েছে সেখানে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

শাহ আলম জানান, তিনি অটোরিকশা চালান। অনেক কিছুই বুঝেন না। জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে গেলে সেখানে তাকে বলা হয়—জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যোগাযোগের জন্য। ক্যানসার হাসপাতালে গেলে তাসলিমাকে দেখে রক্ত পরীক্ষা ও বুকের এক্সরে করতে বলেন। তবে তাসলিমাকে ভর্তি রাখেননি। ঢাকায় কোন আত্মীয় না থাকায় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের ফাঁকা জায়গায় আশ্রয় নেন। তার দুই সন্তান তার ফুপু ও খালার কাছে গ্রামে আছে।

পরীক্ষার করার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহ আলম বলেন, তিনি ক্যানসার হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রক্ত পরীক্ষা দিয়েছেন। তবে সেখানে বুকের এক্সরে হবে না বলে জানায় এবং অন্য জায়গা থেকে সেটা করার জন্য বলা হয়। তিনি বুকের এক্সরে করতে পারেননি আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত। তাই তিনি এখনও ওই বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ফাঁকা জায়গায় ছিলেন। তবে তিনি এখন অনেক খুশি যে দেশ রূপান্তর তার জন্য কথা বলায় তিনি এখন চিকিৎসা পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. খায়রুল আনাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, অজ্ঞতার কারণে তিনি সঠিক প্রসিডিউর না মেনে হাসপাতালে হয়তো কোনো লোকের সঙ্গে কথা বলে থাকতে পারে। তার ছাড়পত্রে ক্যানসার হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ লেখা থাকায় তাকে সেটি জানানো হয়। তিনি বুঝতে ভুল করেছেন। তবে তিনি যদি সঠিক পদ্ধতিতে তার হাসপাতালে শরণাপন্ন হলে অবশ্যই তার সেলাই ড্রেসিং বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হতো। শত শত রোগী প্রতিদিন চিকিৎসা পাচ্ছে, সেও পেত।

তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে বেশ খোলামেলা জায়গা রয়েছে। আশপাশের হাসপাতালের অনেক রোগী জায়গা না পেয়ে তারা বা তাদের স্বজনরা ওই ফাঁকা জায়গায় অবস্থান করেন। মানবিকতার কারণে আমরা তাদের কিছু বলি না। বরং আমরা তাদের সুবিধার জন্য কিছু শেড করে দিয়েছি, যেন কোনো সমস্যা না হয়। 

ডা. মো. খায়রুল আনাম বলেন, যেহেতু তাসলিমা ক্যানসারের রোগী এবং ওই হাসপাতালে বুধবার চিকিৎসা নিয়েছেন তার ব্যবস্থাপত্রে দেখা যাচ্ছে। তাই তাকে সেখানেই চিকিৎসা নিতে হবে।

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবু হেনা মুসতাফা জামান বলেন, তাসলিমা ফুসফুসে ক্যানসারে ভুগছেন। রোগীর স্বামী বা স্বজন তাদের চিকিৎসককে হয়তো ঠিকভাবে বুঝাতে পারেননি। তা না হলে এরকম হওয়ার কথা নয়। তাসলিমাকে ওষুধ দিয়েছেন এবং পরীক্ষা করে দেখা করার পরামর্শ দিয়েছেন। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর হয়তো চিকিৎসক ভর্তি বা পরবর্তী ব্যবস্থা নিতেন।

মানবিক দিক বিবেচনায় তাকে জরুরি বিভাগে রাখা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন ডা জামান। সেখানে তাসলিমার পেটের জায়গা ড্রেসিং ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত