শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে নোবেল বিজয়ী ও গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে ড. ইউনূসসহ আসামিদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। গত সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কমিশন বৈঠকে এ অভিযোগপত্রের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ মামলায় আসামি ছিলেন ১৩ জন। তবে অভিযোগপত্রে আরও একজন আসামির নাম যুক্ত করা হয়। ড. ইউনূস ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম, পরিচালক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মো. শাহজাহান, নূরজাহান বেগম ও পরিচালক এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান, ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক কামরুল হাসান ও প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলাম।
দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের পাওনা লভ্যাংশের মধ্যে অ্যাডভোকেট ফি হিসেবে প্রকৃতপক্ষে হস্তান্তরিত হয়েছে মাত্র ১ কোটি টাকা। বাকি ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বোর্ড সদস্যদের সহায়তায় গ্রামীণ টেলিকমের সিবিএ নেতা এবং অ্যাডভোকেটসহ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্টের শর্ত লঙ্ঘন করে জাল-জালিয়াতির আশ্রয়ে আত্মসাৎ করেছেন। একই সঙ্গে অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অবস্থান গোপন করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। যা দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
গত বছরের ৩০ মে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এজাহারে বলা হয়, ২০২২ সালের ১০ মে গ্রামীণ টেলিকমের ইউসিবি ব্যাংকের মিরপুর শাখার হিসাব থেকে গ্রামীণ টেলিকমের ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখার হিসাবে ৪৩৭ কোটি ১ লাখ ১২ হাজার ৬২১ টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরে ওই বছরের ২৫ মে থেকে ১২ জুন পর্যন্ত ১৫৬ জন শ্রমিক-কর্মচারীর মধ্যে ৩৬৪ কোটি ৬২ লাখ ৬১ হাজার ২৮২ টাকা বিতরণ করা হয়। এ পরিমাণ টাকা বিতরণের এক মাস আগে গ্রামীণ টেলিকমের ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখার হিসাব থেকে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীর নামে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের লোকাল অফিসের হিসাবে ২০২২ সালের ১৭ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সময়ে ২৬ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৫৭ টাকা স্থানান্তর করা হয়।
