সুস্থ হয়ে মুক্ত আকাশে উড়াল দিল শকুন, গায়ে স্যাটেলাইট ট্র্যাকার

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৩৭ পিএম

আবর্জনা ও মৃত প্রাণী খেয়ে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত রাখে বিলুপ্তপ্রায় শকুন বা চিল। এর জন্য শকুনকে বলা হয় প্রকৃতির ঝাড়ুদার। হিমালয় ও পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করা শকুন নানা সময়েই খাদ্যের সন্ধানে উড়ে আসে সমতলে। তবে শতশত কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার ফলে অনেক শকুনই অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেসবকে উদ্ধার করে দেশের একমাত্র শকুন চিকিৎসা ও পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে সুস্থ করার পর আবারও উড়িয়ে দেওয়া হয় আকাশে।

নীলফামারীতে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এমনই একটি শকুনকে গতকাল সোমবার সুস্থ করে চিকিৎসা শেষে মুক্ত করে আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইবনুল আবেদিনের উপস্থিতিতে এই পাখি অবমুক্ত করা হয়।

এ সময় সামাজিক বন বিভাগ নীলফামারীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, গত শনিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যয় জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের বুড়িরডাঙ্গা খালে অসুস্থ অবস্থায় বিরলপ্রজাতির একটি শকুনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। পাখিকে দুদিন চিকিৎসাসেবা ও পর্যাপ্ত খাদ্য খাওয়ানো হয়। পুর্ণ সুস্থ হওয়ায় সোমবার অবমুক্ত করা হয়। এসময় তার গায়ে একটি স্যাটেলাইট ট্র্যাকার লাগানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, শকুন বিলুপ্তপ্রায় একটি প্রাণী। বর্তমানে বাংলাদেশে শকুনের দেখা একেবারেই মেলে না। সাধারণত শকুন ভারতের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করে। সেখানে খাদ্যের অভাব দেখা দিলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে চলে আসে। তাদের মধ্যে যেসব শকুন অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাদের উদ্ধার করে সিংড়া জাতীয় উদ্যান বা শালবনে শকুন চিকিৎসা ও পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শকুন মূলত শীত মৌসুমেই বেশি আসে। দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়ার কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নামে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব শকুনের পরিণতি হয় মৃত্যু। যেগুলো আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, তাদের নেওয়া হয় সিংড়া ফরেস্টে। সিংড়া ফরেস্টে শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপনের পর থেকে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এখান থেকে প্রতিবছর উদ্ধার করা ২০ থেকে ২৫টি শকুনকে সুস্থ করার পর অবমুক্ত করা হয়।

বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, এবার যেসব শকুনকে সুস্থ করে তোলার পর আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের গায়ে স্যাটেলাইট ট্র্যাকার লাগানো হয়েছে। অন্যান্য বছর অবমুক্ত করার সময় শকুনের গায়ে জিপিএস ট্র্যাকার লাগানো হতো। এতে করে শকুন কোন কোন অঞ্চলে চলাফেরা করছে এবং তারা আবার বাংলাদেশে ফেরত আসছে কিনা, তা তারা জানতে পারবেন।

শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্রের মুখ্য গবেষক সারওয়ার আলম দিপু জানান, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ বন বিভাগ ও আইইউসিএন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে সিংড়া জাতীয় উদ্যানে কেন্দ্রটি চালু করা হয়। এখন পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ২৪৯টি শকুনকে সুস্থ করে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর সারাদেশে প্রায় ৪০টি শকুন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চল থেকে এক বছরে ২৫টি শকুন উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবমুক্ত করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত