বাবা-মার শখ ছিল ছেলে বিয়ে করতে যাবে হেলিকপ্টারে করে। তাদের সেই ইচ্ছা পূরণ করতে হেলিকপ্টারে চড়েই বিয়ে করতে যান দেলোয়ার হোসেন আকন। শ্বশুরবাড়ি থেকে নববধূকে নিয়েও আসেন হেলিকপ্টারে চড়িয়ে। সোমবার বিকেলে শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের সারেঙ্গা গ্রামে বর যখন নববধূকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে আসেন, তখন আশপাশে লোকজনের ভিড় লেগে যায়।
এলাকার লোকজন বলেন, গ্রামের দেলোয়ার হোসেন আকন ৯ বছর যাবত আমেরিকা থাকেন। সম্প্রতি তিনি বিয়ের করার জন্য দেশে আসেন।
দেলোয়ার হোসেন আকনের সঙ্গে পাশের নড়িয়া উপজেলার ফতেহজঙ্গপুর ইউনিয়নের বাজনপাড়া গ্রামের লুৎফর বেপারীর মেয়ে সাহাদা খাতুন হুমায়রার বিয়ে হয়। সোমবার দুপুরে দেলোয়ারের শ্বশুর বাড়িতে এই দম্পতির বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হয়। পরে শ্বশুর বাড়ি থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে বর রওনা দেন। বিকেল ৪টার দিকে বিয়ের সব আয়োজন শেষ করে কনে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে গ্রামের বাড়ি ফিরে আসেন দেলোয়ার। এ সময় স্বজনেরা বর-কনেকে বরণ করে নেন। হেলিকপ্টারে চড়ে আসা বর-কনে দেখতে স্থানীয় লোকজন সারেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রামের মাঠে ভিড় করেন। শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ফারজানা আক্তার, আফসানা আক্তারসহ সারেঙ্গা গ্রামের অনেক বাসিন্দা বলেন, দেলোয়ার হোসেন আমেরিকা প্রবাসী। তার বাবা-মার শখ ছেলের বরযাত্রা হেলিকপ্টারে হবে। আমাদের এলাকায় হেলিকপ্টারে চড়ে এই প্রথম বর কনে এসেছে। তাই আমরা দেখতে এসেছি।
বরের মা আমেনা খাতুন জানান, তার দুই ছেলে দুই মেয়ে। ছোট ছেলের বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে আর নববধূকে বরণ করে আনতে হেলিকপ্টার ভাড়া করেন। ছোট ছেলে হেলিকপ্টারে করে নববধূকে নিয়ে আসায় খুবই খুশি তিনি। তাদের জীবনের শখ পূরণ হয়েছে বলে জানান।
বর দেলোয়ার হোসেন আকন বলেন, বাবা-মার শখ ছিল আমি হেলিকপ্টারে করে বউ আনি। তাই বাবা-মার শখ পূরণ করেছি।
কনে সাহাদা খাতুন হুমায়রা বলেন, আমি আগে পরে কখনো হেলিকপ্টারে উঠিনি। এই প্রথম উঠলাম। অনুভূতিটা খুবই ভালো ছিল। আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন।
