বাংলাদেশে কার্যকর করপোরেট করহার অনেক বেশি। এখানে অননুমোদিত ব্যয় ও উৎসে কর কর্তন এত বেশি, ব্যবসায়ীরা এই করপোরেট করহার কমানোর সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না। বাস্তবে এই করপোরেট করহার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ আর থাকে না, তা ক্ষেত্রবিশেষে ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে যায়। অর্থ আইন, ২০২৩ অনুযায়ী নগদ লেনদেনের শর্তাবলির কারণে হ্রাসকৃত করহার সুবিধা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)।
গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে কর-সংক্রান্ত এসব অসুবিধার কথা তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি কামরান টি. রহমান।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এমসিসিআই সভাপতি বলেন, বিগত অর্থবছরে কিছু শর্তসাপেক্ষে প্রায় সব ক্ষেত্রে করপোরেট করহার আড়াই শতাংশ পর্যন্ত কমানো হলেও বর্তমান বাস্তবতায় এর সুবিধা কেউই ভোগ করতে পারছে না। বাংলাদেশের অর্থনীতি ৮০ শতাংশের অধিক অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি। এই অনানুষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির মাধ্যমেই বাংলাদেশের শিল্পব্যবস্থা ক্রমশ অগ্রসরমাণ। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় করহারের ক্ষেত্রে অর্থ আইন, ২০২৩-এর শর্তাবলি বাতিলের দাবি জানান তিনি।
এমসিসিআইয়ের বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, করোনা মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ সম্প্রতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলসহ সব দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ডলার সংকটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর থেকে উত্তরণ হতে সরকারের বিশেষ সহযোগিতা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে কার্যকর করপোরেট করহার কমানোর প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
প্রস্তাবনায় এমসিসিআই সভাপতি বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে সম্পূর্ণভাবে বের হয়ে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় আয়কর হার, ভ্যাটহার, সম্পূরক কর, শুল্কহারসহ কাস্টমস ডিউটিগুলো পুনর্বিন্যাস করা আবশ্যক। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সরকার অটোমেশনে জোর দিচ্ছে। তবে অনলাইনভিত্তিক আয়কর রিটার্ন যাচাইকরণ ব্যবস্থায় আয়কর রিটার্ন জমাদান নথি নম্বর এবং তারিখ অন্তর্ভুক্ত করা গেলে এই ব্যবস্থা আরও ফলপ্রসূ হবে হবে বলে জানিয়েছেন এমসিসিআই সভাপতি।
এ ছাড়া ভ্যাট রিটার্ন জমা ই-ইনভয়েসিং, কর নির্ধারণ ব্যবস্থা, আপিল, ট্রাইব্যুনাল, বিকল্পবিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পর্যায়ে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়ন-পূর্বক অনলাইনে শুনানি গ্রহণের বিধান প্রবর্তন করা, ৪৩টি ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন জমাদানের প্রমাণপত্র দাখিল বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছে এমসিসিআই।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ তহবিল, অনুমোদিত বার্ধক্য তহবিল, অনুমোদিত আনুতোষিক তহবিল এবং শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের ওপর কর আরোপ করা দৃষ্টিকটু। যেহেতু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওই ফান্ডের জন্য কোনোরূপ কর আরোপের বিধান নেই।
সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘অর্থনীতিতে সব সময় একটা চ্যালেঞ্জ থাকবে। সব সময় আমরা একটা সুন্দর পরিবেশ আশা করতে পারি না। গত কয়েক বছরে প্রায় ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করপোরেট করহার কমানো হয়েছে। যৌক্তিকভাবে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন তিনি। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অটোমেশন লাগবে, এর কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে রাতারাতি সবকিছু করে ফেলা সম্ভব নয়। এজন্য সময় লাগবে।’
