আগের দিন সহিংসতা নিহত ২৪

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩১ এএম

রূপান্তর ডেস্ক : আজ সকাল থেকে পাকিস্তানের ৪ প্রদেশ ও ৩ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একযোগে শুরু হবে ১২তম সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি। শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচারণা। কিন্তু কমছে না উত্তেজনা। বেশ কিছু সহিংসতার ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কয়েক দিন বেলুচিস্তান প্রদেশে বেশ কয়েকটি সহিংস ঘটনা ভোটের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছিল। সবশেষ ভোটের মাত্র এক দিন আগে গতকাল বুধবার প্রদেশটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল পরপর দুই দফা বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে আরও ৫০ জন। তবে বিস্ফোরণের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী তার কার্যালয়ে ছিলেন না।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে পিশিন শহরের খাজোনি এলাকায় প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। দ্বিতীয় হামলাটি কিল্লা সাইফুল্লাহ জেলায় জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম ফজল (জেইউআই-এফ) কার্যালয়ের বাইরে ঘটে। আসফান্দ ইয়ার খান কাকার তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।

জিও নিউজ এক প্রতিবেদনে বলেছে, সাধারণ নির্বাচনের ঠিক এক দিন আগেই এমন সহিংসতা হলো। বেলুচিস্তান সরকার এ ঘটনায় তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে তাদের অধিকাংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাদেশিক স্বাস্থ্য সচিব জানিয়েছেন, পৃথক বিস্ফোরণের পর কোয়েটার হাসপাতালগুলোয় জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। আহ্বান করা হয়েছে অতিরিক্ত কর্মীদের। হতাহতদের চিকিৎসার জন্য অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এবার নির্বাচনে দেশটির ১২তম সাধারণ নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএলএন) নওয়াজ শরিফ এবং পাকিস্তান-তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ইমরান খানের। যদিও কয়েক মাস ধরে কারাগারে বন্দি ইমরান খান তবে প্রচারণা ও ভোটের মাঠে পিছিয়ে নেই তার দল।

নির্বাচন নিয়ে পাকিস্তানে যতখানি উত্তেজনার পারদ চড়েছে, তার মূল অবদান এই দুটি দলেরই। অসম হলেও প্রকৃত লড়াই হচ্ছে পিএমএলএন এবং পিটিআইয়ের প্রার্থীদের মধ্যে। একদিকে পিএমএলএন পাকিস্তানের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল এবং অন্যদিকে পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরান খান পাকিস্তানের শীর্ষ জনপ্রিয় নেতা।

দেশটির নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সময় অনুযায়ী, আজ পাকিস্তানের স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শুরু হবে ভোটদান প্রক্রিয়া এবং বিরতি ছাড়াই তা বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।

পাকিস্তানের জনসংখ্যা ২৪ কোটি ১০ লাখ। ইসিপির নথি অনুযায়ী, এই জনসংখ্যার মধ্যে ভোটারের সংখ্যা অর্ধেকের কিছু বেশি ১২ কোটি ৮০ লাখ। তাদের একটি বিশাল অংশ আজ ভোট দেবেন। এখন দেখার বিষয় পরবর্তী পাকিস্তানের ক্ষমতার মসনদে কে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত