মেরাজের শিক্ষা

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:২৭ পিএম

মেরাজের ঘটনা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিরাতের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রতিটি মুমিনের ইমান ও আবেগ জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করণীয় আছে। সর্বপ্রথম যে করণীয় তা হচ্ছে, মেরাজের ব্যাপারে সহিহ আকিদা পোষণ করা। অর্থাৎ আল্লাহতায়ালা হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক রাতে সশরীরে মক্কা থেকে বাইতুল মোকাদ্দাস এবং সেখান থেকে সাত আসমান, সিদরাতুল মুনতাহা, জান্নাত, জাহান্নাম ভ্রমণ করিয়েছেন; আল্লাহতায়ালা স্বীয় বড় কিছু কুদরত প্রিয় হাবিবকে দেখাবেন বলে। এটা নবী জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুজেজা, যা মুসলমানের অকাট্য মৌলিক আকিদার অংশ। অবিচ্ছিন্ন সূত্র পরম্পরায় তা স্বীকৃত ও সুসাব্যস্ত। তাই এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছ বিশ্বাস রাখা জরুরি।

মেরাজের ঘটনাকে অনেকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করতে চান। এটা ইসলামের এবং ইসলামের দাওয়াতের স্বভাবজাত প্রক্রিয়া নয়। কখনো কখনো এমনসব বৈজ্ঞানিক থিউরি শোনানো হয়, যা অনেক সময় হাস্যকর সাব্যস্ত হয়। তাই ইসলামের বিধিবিধান ও নিদর্শনগুলোকে ইসলামের স্বভাববোধ থেকে অনুধাবন করা এবং এর মাধ্যমে নিজের ইমানি জিন্দেগি বিনির্মাণ করাই হচ্ছে প্রকৃত মুমিনের শান।

মেরাজের ঘটনা থেকে সরল দাগে যে শিক্ষাগুলো পাওয়া যায় সংক্ষেপে তা নিম্নরূপ

-আল্লাহর সত্তার ওপর পূর্ণ ও সঠিক বিশ্বাস রাখা। শিরক থেকে একেবারে বেঁচে থাকা।

-আল্লাহর সঙ্গে বান্দার দাসত্বের সম্পর্ক মজবুত করা।

-নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া। কেননা এটা মেরাজে লাভ করা উম্মতের জন্য নবীজির তোহফা। বস্তুত নামাজ এমন একটি ইবাদত, যার মাধ্যমে রবের সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক সুদৃঢ় ও মধুময় হতে থাকে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, বান্দা যখন নামাজ পড়ে তখন সে তার রবের সঙ্গে নিভৃতে আলাপ করে।সহিহ বোখারি : ৪০৫

-সুরা বাকারার শেষ আয়াতগুলোর শিক্ষা ও মর্মগুলো ধারণ করা। এখানে মুমিনের ইমানের শিরোনামগুলো সংক্ষিপ্তভাবে বলা হয়েছে।

-আল্লাহ ও বান্দার হকের প্রতি যত্নশীল হওয়া।

-গিবত ও পরনিন্দা থেকে বেঁচে থাকা। মানুষের সম্ভ্রমহানি না করা। কাউকে অপদস্থ ও লাঞ্ছিত না করা। এটা অনেক বড় কবিরা গোনাহ।

-শুধু লম্বা লম্বা বক্তৃতা নয়, খেয়াল করা মানুষকে যে নসিহত করছি, আমার মাঝে তা কতটুকু আছে।

-জান্নাতের ব্যাপারে আগ্রহী হওয়া।

-জাহান্নামের ব্যাপারে ভীত থাকা।

-হাউজে কাউসারের প্রত্যাশী হওয়া।

-হজরত ইবরাহিম (আ.) যে দোয়ার কথা বলেছেন, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’ এই দোয়ার প্রতি মনোযোগী হওয়া।

-সব প্রকার গোনাহ, বিশেষ করে মদ ও গিবত থেকে বেঁচে থাকা।

এ ছাড়া আরও অনেক শিক্ষার উপলক্ষ হচ্ছে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসরা ও মেরাজ। আনুষ্ঠানিকতা পরিহার করে বাস্তবানুগ এই শিক্ষাগুলোর প্রতি মনোযোগী হওয়াই বুদ্ধিমানের পরিচয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত