ইউরোপে বিভক্তি আরও প্রকট

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:০০ এএম

অ্যানজেলিক ইজপে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী শহর দ্য হেগ শহরে বসে ডাচ সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের কৌশল প্রণয়নের কাজ করেন। কূটনীতিক হিসেবে তার পেশাগত জীবন ২১ বছরের। তিনি ওমানে ডাচ সরকারের উপরাষ্ট্রদূত পদে কাজ করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যনীতি কাজ করেছেন। কিন্তু কয়েক দিন ধরে এ নারী চাকরিহীন। কারণ ডাচ সরকারের ইসরায়েল নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি গত জানুয়ারি মাসে পদত্যাগ করেন। চলতি হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ তাকে ক্ষুব্ধ করেছে।  অ্যানজেলিক ইজপে বলেন, ‘আমি আমার পরিবারের রুটি-রুজির অবলম্বন। কিন্তু আমি আমার সঙ্গীকে বলেছি, আমি সত্যিই এ ধরনের কাজের (ইসরায়েলকে সমর্থন) অংশ হতে চাই না। আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত মর্যাদার প্রশ্ন জড়িয়ে গেছে এখানে।’ পদত্যাগের আগে তিনি ডাচ সরকারের কার্যালয়ের সামনে প্রতি সপ্তাহের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতেন যেখানে তিনি ও তার সহযোগীরা গাজা যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানাতেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্র হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে সাব্যস্ত করেছ। গত ৭ অক্টোবর হামাস কর্তৃক ইসরায়েলে চালানো আক্রমণকে গত শতকের ইহুদি-নিধনের ঘটনার পর ইহুদি ধর্মাবলম্বী মানুষদের ওপর সবচেয়ে মরণঘাতী হামলা আখ্যা দিয়েছে তারা। এখন পর্যন্ত ইইউ, জোট হিসেবে গাজা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথা বলছে না। যুক্তরাষ্ট্রও তাই। তবে এক ডজনেরও বেশি দেশ আলাদাভাবে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির কথা বলছে। ইইউ জোট যুদ্ধবিরতির বদলে গাজায় মানবিক করিডর ও সংঘাতে বিরতি দেওয়ার কথা বলছে। যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সামরিক সহায়তার পাশাপাশি ইউরোপের অনেক দেশ থেকে ইসরায়েলে সমরাস্ত্র সরবরাহ চলছে যেখানে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস অন্যতম। পদত্যাগের পর ইজপে বসে নেই। তিনি আটলান্টিক জুড়ে বিক্ষুব্ধ কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের একজোট করতে কাজ করে যান। সম্প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের যে আট শতাধিক কর্মকর্তা গাজা যুদ্ধ বন্ধ করার দাবি জানানোর পাশাপাশি ইসরায়েল প্রশ্নে নিজ নিজ সরকারের ভূমিকা বদলের দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, বিবৃতিটিতে সই করেছে প্রায় ৯০০ জনের কাছাকাছি। এ বিবৃতির মধ্য দিয়ে সরকারগুলোর প্রতি এ বার্তাই দেওয়া হয়েছে যে, তাদের ভূমিকা নিয়ে দেশগুলোর মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ করছে না। ওই চিঠিতে সই করা একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলছেন, ইউরোপের সরকারি দপ্তরগুলোতে কণ্ঠস্বর বন্ধ করে দেওয়ার (সাইলেন্সিং কালচার) একটা চর্চা চলছে। ১৪ বছর বেসামরিক প্রশাসনে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এ কর্মকর্তা বলছেন, তিনি ওই চিঠি প্রণয়নের জন্য গোপনে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছেন। ওই চিঠিতে লেখা হয়, গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরায়েল যা করছে তার সহযোগী হয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সরকারগুলো আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের কর্মকা-ে অবদান রাখছে। ট্রান্স-আটলান্টিক বিবৃতিটি সম্পর্কে ইজপে জানান, তিনি জার্মানি, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও ইইউ প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সই সংগ্রহ করেছেন। এতে বিপুলসংখ্যক পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এটি (চিঠি লেখা) বরফচূড়া গলনের প্রারম্ভ।’ তিনি জানান, মার্কিন কর্মকর্তারা অনেক বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন; কারণ তারা ভাবছিলেন, তাদের চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে। গত মাসে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা আলাদা একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে গোটা ইউরোপের দেড় হাজার কর্মকর্তা সই করেছিলেন। তারা বলেছিল, গাজা যুদ্ধে ইউরোপের যা ভূমিকা তাতে ইইউ আস্থা হারানোর সংকটে পড়বে। ইউরোপিয়ান পলিলি সেন্টারের মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক মিহাইল চিহাইয়া বলেন, এ চিঠি গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার দাবিতে আলো ফেলতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী গোষ্ঠীর ওপর চাপ বাড়াবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে সংকট সমাধানে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে কথার ওপরও জোর দেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত