জলবায়ু সুরক্ষায় ভরসা হতে যাচ্ছে সাদা হাইড্রোজেন

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২৫ এএম

জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনে ক্রমবর্ধমান সংকটের নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জ্বালানির উৎস সন্ধানে মরিয়া মানুষ। হাইড্রোজেনকে জ্বালানি হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে মানুষ বিবেচনা করছে। অনেক জায়গায় ব্যবহার হচ্ছে এটি। সম্প্রতি সাদা হাইড্রোজেন বড় বিকল্প হিসেবে আলোচনায় এসেছে। 

গত বছর উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সের লরেইয়েঁ অঞ্চলে ভূগর্ভের ৩ হাজার মিটার নিচে হাইড্রোজেনের বড় উৎসের সন্ধান পাওয়া যায়।

হাইড্রোজেন নানা রঙের হয়ে থাকে। এর মধ্যে ধূসর বর্ণের হাইড্রোজেন উৎপাদিত হয় প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে, সবুজ বর্ণের হাইড্রোজেন তৈরি হয় নবায়নযোগ্য উৎস থেকে, কয়লা থেকে হয় কালো হাইড্রোজেন, গোলাপি হাইড্রোজেন পাওয়া যায় পরমাণু শক্তি থেকে এবং নীল বর্ণের হাইড্রোজেন আসে কার্বন থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় জ্বালানি হাইড্রোজেন হচ্ছে ধূসরটি। ২০২২ সালে সারা পৃথিবীতে উৎপাদিত হাইড্রোজেনের ৬২ শতাংই ধূসর বর্ণের। তবে এগুলোর মধ্যে দূষণকারী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বিশ্বের ২ শতাংশ পর্যন্ত কার্বন দূষণে অবদান রাখে ধূসর হাইড্রোজেন। তবে এদের মধ্যে টেকসই প্রকরণ হচ্ছে সবুজ রঙের হাইড্রোজেন। এখন আরেকটি প্রকরণ নিয়ে কথা হচ্ছে যা হতে আরও টেসই। এটি হচ্ছে প্রাকৃতিক হাইড্রোজেন যাকে বলা হচ্ছে সাদা হাইড্রোজেন। ফ্রান্সের ওই উৎস সাদা হাইড্রোজেনের।

ফ্রান্সের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের গবেষণা পরিচালক ও ইউনিভার্সিটি অব লরেইয়েঁর অধ্যাক ফিলিপ্পে দে দোয়াঁতো বলেন, ‘দেড় বছর আগেও মানুষ প্রাকৃতিক হাইড্রোজেনের কথা বলত না। এটি প্রকৃতিতেই উৎপাদিত হয়। একে উত্তোলনের পর সরাসরি আমরা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে পারি।’ বর্তমানে ইউরোপের অনেক দেশেই এর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাদা হাইড্রোজেন মজুদ করার জন্য প্রখ্যাত ধনুকুবের বিল গেটসের এরই মধ্যে ৯ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। আফ্রিকার দেশ মরক্কো, মোজাম্বিক ও দক্ষিণ আফ্রিকায় হাইড্রোজেনের উৎসের সন্ধান পাওয়া গেছে। সারা বিশ্বে অনাবিষ্কৃত আরও অনেক হাইড্রোজেনের আধার রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত