ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:১৬ এএম

গত ২২ নভেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সীতাকুন্ড উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জয়নব বিবি জলির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পরেই সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে সংসদ নির্বাচনে এক প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নেমে কারণ দর্শানোর নোটিস পান তিনি। মুচলেকা দিয়ে সে যাত্রায় রক্ষা হয় তার।

ভোটের ফলের পর অফিসে মিষ্টি বিতরণকে কেন্দ্র করে এক অফিস সহায়কের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ওই সময় দুজনই পরস্পরের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। এর জের ধরে অফিস সহায়কের বেতন-বিলে সই করছেন না জয়নব বিবি জলি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম রফিকুল ইসলাম বেতন শিটে স্বাক্ষর করে দিলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্বাক্ষর না করায় ডিসেম্বর মাসের বেতন পাননি পরিষদের চার কর্মচারী। আর একজন কর্মচারীকে বাদ দিয়ে অপর তিনজনের জানুয়ারি মাসের বেতনশিট পাঠানো হলে ইউএনও তাতে স্বাক্ষর করেননি। ফলে দুই মাস যাবত পরিষদের চার কর্মচারী বেতন পাচ্ছেন না।

সর্বশেষ, গত বৃহস্পতিবার উপজেলা ঠিকাদার সমিতি ‘সঠিক সময়ে’ ফাইলে স্বাক্ষর না করার অভিযোগ এনে জলির বিরুদ্ধে লিখিত দিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ বরাবর।

ঠিকাদার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ উল্লেখ করা হয়, উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার পর উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাইল অনুমোদন দিয়েছেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে ফাইলগুলো আটকে রেখেছেন। তবে, উপজেলার বাইরের ঠিকাদার ও তার পছন্দের ঠিকাদারদের বিল যথাসময়ে প্রদান করা হচ্ছে।

ঠিকাদার সমিতির সদস্য লিয়াকত বলেন, ‘প্রক্রিয়া অনুযায়ী আমাদের কাজের গুণগত মান বুঝে নিয়ে প্রকৌশলী ও নির্বাহী কর্মকর্তা বিলে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান নিজের পছন্দের ঠিকাদার ছাড়া বাকি সবার ফাইল আটকে রেখেছেন। এই সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য আমরা সংসদ সদস্য বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছি। তিনি আবেদনটি গ্রহণ করে বিভাগীয় কমিশনারকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জয়নব বিবি জলি বলেন, ‘কাজের মান নিয়ে অভিযোগ থাকায় তিন-চারটা ফাইল আটকে রেখেছি। জনগণের টাকা খরচের বিষয়ে আমারও তো একটা দায়বদ্ধতা রয়েছে। আর একজন অফিস সহায়ক আমার সঙ্গে বারবার বেয়াদবি করার কারণে তার নাম বাদ দিয়ে বাকি তিনজনের বেতন শিট রেডি করতে বলেছি।’

কাজের মান নিয়ে অভিযোগ থাকলে উপজেলা প্রকৌশলী ও নির্বাহী কর্মকর্তা কীভাবে স্বাক্ষর করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার দায়বদ্ধতা থেকে আমি আটকে রেখেছি। কাজ বুঝে নিয়ে আমি ফাইল ছেড়ে দেব।’

ইউএনও বলেন, ‘বেতন আটকে রাখার এখতিয়ার কারও নেই। কেউ যদি চাকরি থেকে বরখাস্ত হয় তবুও সরকারের নিয়ম অনুযায়ী তাকে খোরপোষ দেওয়া হয়। পরিষদের কর্মচারীদের ডিসেম্বর মাসের বেতনশিটে আমি স্বাক্ষর করে দিয়েছি। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কেন আটকে রেখেছেন সেটা আমার বোধগম্য নয়। তবে একজন কর্মচারীকে বাদ দিয়ে অপর তিনজনের জানুয়ারি মাসের বেতনশিট আমার কাছে আনা হলে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটার কারণে আমি তাতে স্বাক্ষর করিনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত