উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩৭ এএম

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বৃহস্পতিবার দুদকের ঠাকুরগাঁও সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আজমির শরীফ মারজি বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান দুদকে দাখিল করা তার সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫২ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ৭৯ লাখ ৭২ হাজার ৫৫৫ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগ-দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এ অপরাধে কমিশনের অনুমোদনক্রমে মামলাটি করা হয়। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ও অন্য কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সেটিও আইন অনুযায়ী আমলে নিয়ে আসা হবে বলে জানান আজমির শরীফ মারজি।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান ১ কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তেঁতলিয়া সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ২০১৫ সালের ৪ মার্চ সম্পাদিত (৫৯০/১৫) দলিলে একটি জমির ওপর নির্মিত আবাসিক হোটেলের মূল্য ৪২ লাখ টাকা দেখিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী এই জমিসহ হোটেলের মূল্য ৫৫ লাখ ৩৬ হাজার ৫২ টাকা। ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫২ টাকা সম্পদের তথ্য গোপন করে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, বিনিয়োগ, ঋণ পরিশোধ ও পারিবারিক ব্যয় মিলে ১ কোটি ৭১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫ টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে মাহমুদুর রহমানের। এর মধ্য তার উপার্জিত ৯১ লাখ ৭১ হাজার ৪৮০ টাকা মূল্যের সম্পদের গ্রহণযোগ্য হলেও ৭৯ লাখ ৭২ হাজার ৫৫০ টাকা মূল্যের সম্পদের বৈধ কোনো সূত্র উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয়েছেন কাজী মাহমুদুর রহমান। জ্ঞাত বহির্ভূত সম্পদ নিজের ভোগ দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলুর বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আমিনুর রহমান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বাদী আদালতে অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত