ব্যাংক পরিচালক হতে ন্যূনতম বয়স ৩০

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:০৩ এএম

কোনো ব্যক্তির বয়স ৩০ বছর না হলে তিনি ব্যাংক পরিচালক হতে পারবেন না। তাছাড়া ১৮ বছরের আগে তার কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। পরিচালক হতে গেলে অন্য কোনো ব্যাংক-কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি বা তেমন কোম্পানিগুলোর কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক বা উপদেষ্টা বা পরামর্শক বা অন্য কোনোভাবে লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকা যাবে না। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং পরিচালকদের দায়িত্ব ও কর্তব্যসংক্রান্ত এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের জারি করা ২৪ পৃষ্ঠার এ নীতিমালায় পরিচালকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক খাত সূত্রে জানা গেছে, কোনো কোনো ব্যাংকে ২২ বছর বয়সেও পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন, এমন উদাহরণও আছে।

ব্যাংক পরিচালক হওয়ার ক্ষেত্রে ১৮ বছর বয়সের আগে কোনো অভিজ্ঞতা কাজে আসবে না জানিয়ে ওই নীতিমালায় বলা হয়েছে, অন্যূন ১০ বছরের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক বা পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার কোনো কাজের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালকদের যোগ্যতা সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফৌজদারি অপরাধে দ-িত হতে পারবেন না কিংবা কোনো জাল-জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ বা অন্য অবৈধ কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বা জড়িত নন, এমন নিশ্চয়তা থাকতে হবে। তার সম্পর্কে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায়ে বিরূপ পর্যবেক্ষণ বা মন্তব্য থাকতে পারবে না; আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট কোনো নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের বিধিমালা, প্রবিধান, নীতিমালা বা নিয়মাচার লঙ্ঘনের কারণে দ-িত হওয়া যাবে না।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালক হতে আগ্রহী ব্যক্তি এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, যার নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বা প্রতিষ্ঠানটি অবসায়িত হয়েছে; তার নিজের কিংবা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণের জন্য খেলাপি নন। এ ছাড়া তিনি একই ব্যাংক-কোম্পানির বহিঃহিসাব নিরীক্ষক, আইন উপদেষ্টা, উপদেষ্টা, পরামর্শক বা অন্য কোনো লাভজনক পদে থাকতে পারবেন না।

পরিচালকের যোগ্যতা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, তিনি কোনো সময়ে আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হননি; তিনি ব্যক্তিগতভাবে অথবা তার ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বা অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের জন্য করখেলাপি হতে পারবেন না।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক-কোম্পানিতে কোনো পদে চাকরিরত থাকলে চাকরি অবসায়নের পাঁচ বছর অতিক্রম না হলে সেই ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হতে পারবেন না। কোনো ব্যাংক কর্তৃক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩-এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা হিসেবে তালিকাভুক্ত হলে সেই তালিকা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর পাঁচ বছর না পেরোলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন না।

স্বতন্ত্র পরিচালকদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে এসব শর্ত ছাড়াও স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগসংক্রান্ত নীতিমালা পরিপালিত হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন এ নীতিমালার আলোকে পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ ২০ জন এবং স্বতন্ত্র পরিচালক হবে তিনজন। তবে ২০-এর নিচে পরিচালক হলে স্বতন্ত্র পরিচালক দুজনের বেশি হতে পারবেন না। একই সঙ্গে কোনো একক পরিবার হতে তিনজনের বেশি সদস্য পরিচালক হতে পারবেন না।

ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারধারক পরিচালক, শেয়ারধারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক এবং স্বতন্ত্র পরিচালকের সমন্বয়ে গঠিত হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিকল্প পরিচালকও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হবেন, পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ ২০ জন, পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক সংখ্যা ২০ জন হলে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা হবে অন্যূন ৩ জন। পর্ষদের পরিচালক সংখ্যা ২০ জনের কম হলে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা হবে অন্যূন ২ জন; কোনো একক পরিবার হতে ৩ জনের অধিক সদস্য একই সময়ে কোনো ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালক পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না। বোর্ডসভায় অংশগ্রহণের ফি বাদে স্বতন্ত্র পরিচালকরা মাসে ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন ব্যাংক থেকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম যথাযথ ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য উপযুক্ত ও পেশাগতভাবে দক্ষ ব্যক্তির সমন্বয়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হওয়া আবশ্যক। ব্যাংকের কর্মকা- প্রধানত আমানতকারীদের অর্থে পরিচালিত হয়। এ ক্ষেত্রে আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষা করা অপরিহার্য। এ কারণে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব অপরাপর কোম্পানির তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২৩ সালে ব্যাংক-কোম্পানি আইনে বেশি সংশোধনী আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন লাগবে : ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ধারা ১৫ এর উপধারা (৪) অনুযায়ী বিশেষায়িত ব্যাংক ছাড়া অন্য যেকোনো ব্যাংক-কোম্পানির পর্ষদ সভায় মনোনীত এবং বার্ষিক সাধারণ সভায় নির্বাচিত/পুনর্নির্বাচিত পরিচালক/পরিচালকদের নিয়োগ/পুনর্নিয়োগ বা নিযুক্তি/পুনর্নিযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পূর্বানুমোদন নিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের তারিখ থেকে ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালক/ পরিচালকদের নিয়োগ/পুনর্নিয়োগ বা নিযুক্তি/পুনর্নিযুক্তি কার্যকর হবে।

এই পূর্বানুমোদন গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পর্ষদ সভা/বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠানের সাত কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষরে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে হবে এবং আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি-কাগজপত্র/তথ্যাবলি সংযুক্ত করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত