বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চায় রিহ্যাব

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:০৬ এএম

আবাসন খাতে আগামী ১০ বছরের জন্য বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। পাশাপাশি এই খাতের ক্রেতাদের ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন না করারও আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়োজিত প্রাক বাজেট সভায় রিহ্যাবের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জান্নাতুল ফেরদৌস এ আহ্বান জানান।

জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ দেশে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়ার ফলে ভবিষ্যতে ওইসব বিনিয়োগকারী করের আওতায় চলে আসবেন, যা সরকারের রাজস্ব বাড়াতে সহায়তা করবে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম গ্রহণের সুযোগ থাকায় দেশের প্রচুর অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে।

এসব দেশের ফ্ল্যাট অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ের অর্থের উৎসের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় না।

প্রসঙ্গত, ২০২০-২১ অর্থবছরে আবাসন খাতসহ সব ধরনের খাতে বিনা প্রশ্নে মাত্র ১০% কর দিয়ে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছিল। এরপর নানা সমালোচনার মুখে পরে সরকার ওই সুযোগটি বাতিল করে দেয়। রিহ্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, আলোচ্য অর্থবছরে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার ফলে সরকার ২০৬৫ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছিল। কিন্তু এই সুযোগ বাতিল হওয়ায় সরকার ওই রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

সভায় ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিস্ট্রেশনে বিদ্যমান ফি ১২ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ নামানোসহ ৮টি প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রাহমাতুল মুমিনের সভাপতিত্বে সভায় রিহ্যাব ছাড়াও নির্মাণ খাতের অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ) প্রথম সহসভাপতি ইমরান করিম জানান, ক্লিংকার আমদানিতে ৫০০ টাকা শুল্ক থেকে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু বিসিএমএ ২০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছিল। এই ট্যারিফ বাড়ানোর ফলে ভোক্তাপর্যায়ে সিমেন্টের মূল্য বেড়েছে এবং তারা এই দামে সিমেন্ট কিনছে না। ফলে সিমেন্টের বিক্রি কমে যাচ্ছে। বিক্রি না বাড়ায় ভ্যাট আদায়েও বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং ভবিষ্যতেও ফেলবে।

বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি মো. মাহবুবুর রশিদ জুয়েল বলেন, ‘টার্নওভার ট্যাক্সের কারণে ব্যবসায় চাপের সম্মুখীন হচ্ছি। আমাদের ব্যবসায় ক্ষতি হলেও রিটার্ন দাখিলের পর আয়কর কর্মকর্তারা তা মানতে চান না, তারা রিটার্ন ডিসঅ্যালাউ করে টার্নওভার ট্যাক্সে দশমিক ৬ শতাংশে নিয়ে যায়। যে পরিমাণ মুনাফা সব সময় করা যায় না। আর এই ট্যাক্স আয়কর না বিক্রয় কর হিসেবে নেওয়া হচ্ছে তা জানানো উচিত। তবে টার্নওভার ট্যাক্স হিসেবে না নেওয়ার জন্য এনবিআরের চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রাহমাতুল মুমিন বলেন, ‘নির্মাণশিল্পের উন্নয়নে এনবিআর সব সময় কাজ করেছে। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, আমরা যত ছাড় দিই ততই বেশি অভিযোগ আসে। এবারের প্রস্তাবগুলো আমরা আমলে নিয়ে রাষ্ট্র ও শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় রাখব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত