আবাহনীর আর মোহামেডানের পাঁড় সমর্থকদের গত বছর ৩০ মে কুমিল্লা ক্লাসিক ভুলে যাওয়ার কথা নয়। ফেডারেশন কাপের ফাইনালে হয়েছিল ফুটবলের সোনালি সময়ের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথ। ৪-৪ গোলে অমীমাংসিত লড়াইটা শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জিতেছিল মোহামেডান। আবারও সমর্থকদের সামনে বাংলা ক্লাসিকো দেখার সুযোগ। আজ গোপালগঞ্জের শেখ ফজলুল হক মণি স্টেডিয়ামে বি গ্রুপের স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরশত্রু।
দুই দলই গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচে জিতে পা রেখেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় এ মুহূর্তে গ্রুপের শীর্ষে আবাহনী; অর্থাৎ আজ ড্র হলে তারাই হবে গ্রুপসেরা। মোহামেডানের সেরা হতে গত বছর মে মাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে হবে।
ফেডারেশন কাপে এই দুই দলের আছে রোমাঞ্চকর অতীত। মর্যাদার এই আসরে সাফল্যের বিচারে আবাহনী খানিকটা এগিয়ে, তারা ১২ বারের চ্যাম্পিয়ন। এর মধ্যে অবশ্য ১৯৮২ সালে মোহামেডানের সঙ্গে তাদের শিরোপা ভাগ করে নিতে হয়েছিল। মোহামেডান এই শিরোপা জিতেছে ১১ বার।
এর মধ্যে আবাহনী ছাড়াও আরেকবার তাদের শিরোপা ভাগ করতে হয় ব্রাদার্স ইউনিয়নের (১৯৮০ সালে প্রথম আসরে) সঙ্গে। আজকের লড়াইটা মূলত আনুষ্ঠানিকতার হলেও মৌসুমের প্রথম দেখায় জিততে চাইবে দুই দলই। আবার আজকের ম্যাচের মধ্য দিয়ে দুই দলের একটা ড্রেস রিহার্সালও হয়ে যাবে। ২৩ ফেব্রুয়ারি যে তাদের ফের মুখোমুখি হতে হবে লিগের ম্যাচে।
পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থানের প্রশ্নে সেই ম্যাচ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
চলতি লিগে চোখ রাখলে পারফরম্যান্সের প্রশ্নে এগিয়ে রাখতে হবে মোহামেডানকে। ১০ দলের লিগে দুটি দল এখনো হারের তেতো স্বাদ পায়নি। মোহামেডান আছে সেই তালিকায়। সাত রাউন্ড শেষে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে সাদা-কালোরা আছে দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংসের চেয়ে তারা তিন পয়েন্টে পিছিয়ে। ১৩ পয়েন্ট নিয়ে মোহামেডানের পরেই আছে আবাহনী।
ছয়বারের লিগ শিরোপাজয়ী আবাহনী এর মধ্যেই লিগে দুটি ম্যাচে হেরে বসেছে। বাকি পথটা নিশ্চয় তারা আর হারতে চাইবে না। সেটা করতে হলে পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা বড্ড জরুরি আবাহনীর। যেটা এই মৌসুমে অনেকটাই অনুপস্থিত। দলের ভিনদেশিরা সেভাবে জ্বলে উঠছেন না। আবার স্থানীয়রাও সেই না পারাটা পুষিয়ে দিতে ব্যর্থ। মোহামেডানের জন্য গল্পটা একটু অন্য রকম। কোচ আলফাজ আহমেদের অধীনে মৌসুমের শুরু থেকেই মোহামেডান খেলছে অন্য রকম ফুটবল।
মৌসুম শুরুর স্বাধীনতা কাপের রানার্সআপ হওয়া দিয়ে শুরু। এরপর লিগের টানা সাত ম্যাচ অপরাজিত থাকা। এ সবকিছুই হচ্ছে দলের দেশি-ভিনদেশিদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে।
আবাহানী-মোহামেডান ম্যাচ মানেই সমীকরণের বাইরের বেশ কিছু জড়িয়ে যায়। তাই আনুষ্ঠানিকতার হলেও দুই দলের সমর্থকদের কাছে এই ম্যাচ মর্যাদার, এগিয়ে যাওয়ার।
'বি' গ্রুপের এই ম্যাচ আনুষ্ঠানিকতার হলেও অপর ম্যাচের গুরুত্ব বেশ। মুন্সীগঞ্জে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে তলানির দুই দল চট্টগ্রাম আবাহনী ও ব্রাদার্স। যারা জিতবে, তাদের সুযোগ থাকবে সেরা আটে নাম লেখানোর। তবে জিতলেই হবে, সেটাও বলা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের এক অদ্ভুতুড়ে ফরম্যাটের কারণে আজ মুন্সীগঞ্জে জয় পাওয়া দলটিও বাদ পড়ে যেতে পারে। আবার এই ফরম্যাটের বদৌলতে সি গ্রুপে কোনো পয়েন্ট না পাওয়া শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র পেতে পারে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।
