বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী পরাশক্তি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাথে দীর্ঘ পাঁচ বছরের সম্পর্কের ইতি টানলেন উজবেক মিডফিল্ডার মুজাফফর মুজাফফরভ। বিদায়লগ্নে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন তিনি। যেখানে সাদা-কালো শিবিরের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা, ক্লাবের জন্য করা ত্যাগ এবং ফেলে আসা নানা স্মৃতির কথা উঠে এসেছে।
বিদায়ী বার্তায় মুজাফফরভ জানান, বিগত বছরগুলোতে দেশের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় ও শক্তিশালী ক্লাবগুলো থেকে লোভনীয় অফার পাওয়া সত্ত্বেও মোহামেডানের প্রতি ভালোবাসার কারণে তিনি ক্লাব ছাড়েননি। গত পাঁচ মৌসুমে এই দলের সাফল্যের জন্য নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন এবং কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
তবে ক্যারিয়ারের এই লম্বা সময়ে ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধাক্কা খেয়েছেন এই ফুটবলার। বিশেষ করে ২০২৫ ও ২০২৬ সালটি তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল, কারণ এই সময়েই তিনি তার মাতৃহারা হন। মায়ের মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে কিছুদিনের জন্য ক্লাবের বাইরে থাকলেও, ক্লাবের টানে আবারো মাঠে ফিরে এসেছিলেন তিনি।
মোহামেডানের হয়ে গত দুই মৌসুম দলীয়ভাবে আশানুরূপ কাটেনি বলে আফসোস প্রকাশ করেছেন এই উজবেক তারকা। বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেও ট্রফি না পাওয়ার আক্ষেপ পুড়িয়েছে তাকে। অনেক সমীকরণ ও চিন্তাভাবনার পর ক্যারিয়ারের নতুন চ্যালেঞ্জ নিতেই মূলত সাদা-কালো শিবির ছাড়ার এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে এই ক্লাবের জার্সি গায়ে নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে গত পাঁচ বছরে মাঠ মাতানো মুজাফফরভের অবদান ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্লাবটির হয়ে তার পারফরম্যান্সের খতিয়ান:
ম্যাচ: ৭৫টি
গোল: ২৫টি
অ্যাসিস্ট: ২০টি
শিরোপা: ১টি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ও ১টি ফেডারেশন কাপ।
এই দীর্ঘ সময়ে মোহামেডানের হয়ে মোট সাতটি ফাইনাল ম্যাচ খেলেছেন তিনি। একটা সময় খাদের কিনারে চলে যাওয়া মোহামেডানকে পুনরায় ঘরোয়া ফুটবলের শীর্ষ কাতারে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্লাবের হারিয়ে যাওয়া গৌরব পুনরুদ্ধারে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
বিদায়ের শেষ মুহূর্তে এসেও মোহামেডান সমর্থকদের আশ্বস্ত করে মুজাফফরভ বলেন, সাদা-কালো এই ক্লাবকে এবং সমর্থকদের ভালোবাসাকে তিনি আজীবন নিজের হৃদয়ে ধারণ করবেন এবং কখনো ভুলবেন না।
মারাকানায় মেসির সাথে সেই বিখ্যাত আড্ডা নিয়ে মুখ খুললেন নেইমার