মৃগী রোগ কি? জানুন কারণ, লক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের উপায়

  • মস্তিষ্কে সবসময় ইলেকট্রিক্যাল প্রবাহ চলে, আর এই প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে গেলে মস্তিষ্কে জটিলতা দেখা দেয়। আর মস্তিষ্কের জটিলতা থেকেই রোগীর শরীরে শুরু হয় খিচুনি
  • চিকিৎসকদের মতে, বংশে কারও মৃগী থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এই রোগ সঞ্চারিত হতে পারে
আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৪ এএম

মৃগী স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতাজনিত একটি রোগ। কোনো কারণে মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের উদ্দীপক ও নিবৃত্তিকারক অংশদ্বয়ের কার্যপ্রণালির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেলে মৃগীরোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অত্যন্ত গুরুতর এই রোগে আক্রান্ত হলে মানুষকে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

মৃগী কী?

মৃগীর ইংরেজি প্রতিশব্দ এপিলেপসি (Epilepsy)। এটি নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়বিক রোগ, যাতে খিঁচুনি হয়। চিকিৎসা শাস্ত্র থেকে জানা যায়, মস্তিষ্কে সবসময় ইলেকট্রিক্যাল প্রবাহ চলে। এই প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে গেলে মস্তিষ্কে জটিলতা দেখা দেয়। আর মস্তিষ্কের জটিলতা থকেই রোগীর শরীরে শুরু হয় খিচুনি। এছাড়া অনেক মৃগী রোগী অস্বাভাবিকভাবে কাঁপুনি বা খিঁচুনির পাশাপাশি চোখ-মুখ উল্টে ফেলে কিংবা চোখের পাতা স্থির হয়ে যায়।

কারা এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন?

 

কেউ মৃগীতে আক্রান্ত হতে পারেন কি না, তা আগে থেকে বলা মুশকিল। তবে চিকিৎসকদের মতে, বংশে কারও মৃগী থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এই রোগ সঞ্চারিত হতে পারে। মস্তিষ্কের স্নায়ু কিংবা গঠনগত কোনও সমস্যা থাকলেও কিন্তু এই রোগ হানা দিতে পারে।

মৃগীরোগের কারণ

মৃগীরোগ হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ নেই এবং বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই এর কোনো কারণ বের করা সম্ভব হয়নি। তবে নিম্নোক্ত কারণগুলো থেকে মৃগীরোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে:

  • জন্মের আগে বা জন্মের সময় বা পরে মাথায় আঘাত পেলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাব।
  • মস্তিষ্ককে ক্ষতি করে এমন কিছু সংক্রমণ, যেমন মেনিনজাইটিস, এনসেফালাইটিস।
  • মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে প্রতিবন্ধকতা (স্ট্রোক বা ভাস্কুলার সমস্যা)।
  • পুষ্টির অভাব।
  • মস্তিষ্কের টিউমারের উপস্থিতি খিঁচুনির কারণ হতে পারে এবং মৃগীরোগের কারণ হতে পারে।
  • অধিক মাত্রার জ্বর।
  •  

মৃগী রোগের প্রাথমিক লক্ষণ

খিঁচুনি ধরনের উপর নির্ভর করে একজন ব্যক্তির উপসর্গ পরিবর্তিত হতে পারে। বারবার খিঁচুনি মৃগী রোগের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ। খিঁচুনি হওয়ার আরও লক্ষণগুলো হলো-

১. জ্ঞান হারানো

২. পেশির অনিয়ন্ত্রিত গতিবিধি

৩. যোগাযোগ ও বোঝার সমস্যা

৪. ভয় ও উদ্বেগ

৫. শ্বাসকষ্ট

৬. হঠাৎ হাত কাঁপা

৭. হাত থেকে জিনিস পড়ে যাওয়া

৮. একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ইত্যাদি।

মৃগী রোগের চিকিৎসা

চিকিৎসা শাস্ত্রে মৃগী রোগের নানা চিকিৎসা রয়েছে। এ রোগের কার্যকরী অ্যান্টিএপিলেপটিক ওষুধ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ খেলে এ রোগ থেকে মুক্তি সম্ভব। তবে ওষুধের পাশাপাশি অতিরিক্ত উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে রোগীকে। সঠিক নিয়মে খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম রোগীর সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে দারুণ সহায়ক।

উল্লেখ্য, বিপদমুক্ত থাকতে মৃগী রোগীকে পানিতে নামা, গাছে উঠা, গাড়ি চালানো ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে।

নিয়ন্ত্রণের উপায়

১) ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হলে এই ধরনের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই রোজ নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোনোর অভ্যাস করা জরুরি। রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমোতেই হবে। কাজের মাঝে ‘পাওয়ার ন্যাপ’ নিতে পারলেও ভাল হয়।

২) মৃগী রোগ নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক শর্ত হল নিয়ম করে ওষুধ খাওয়া। যাঁদের স্নায়ুর সমস্যার কারণে নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, তাঁদেরও এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোনও ভাবেই ওষুধ খেতে ভুলে গেলে চলবে না।

৩) নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। শারীরিক ভাবে সক্রিয় থাকলে শারীরবৃত্তীয় কাজগুলিও সঠিক ভাবে সম্পন্ন হয়। শরীরের পাশাপাশি মানসিক চাপও বশে থাকে।

৪) মৃগী থাকলে অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় খেতে বারণ করা হয়। কারণ, অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় অ্যান্টি-এপিলেপ্টিক ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট করে।

৫) মৃগী নিয়ে অনেকের মনেই নানা রকম কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস রয়েছে। প্রথমেই বলে রাখা ভাল, মৃগী জিনগত, ছোঁয়াচে নয়। তাই কারও যদি খিঁচুনি হয় বা হঠাৎ করে কেউ জ্ঞান হারান, তখন ঘরোয়া টোটকার উপর ভরসা না করে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়াই শ্রেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত