লাল বাসে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৩৮ এএম

কৃচ্ছ্রসাধনের নামে নিজস্ব সাতটি নীল বাস বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের (বিআরটিসি) আটটি লাল বাস চালু রেখেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বাসে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অন্যদিন বাসের শিডিউল স্বাভাবিক থাকলেও বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে নীল বাস। এই দিন শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের বাহক হিসেবে বেছে নিতে হয় লাল বাসকে, যা মাত্র দুই শিফটে চলাচল করায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

জানা যায়, ২০২২ সালের ২৭ জুলাই সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭২তম জরুরি অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল সভায় সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার শুধু অনলাইনে ক্লাস ও নিজস্ব এবং ভাড়াকৃত যানবাহনগুলোর ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরপর ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর ৭৮তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল সভার আলোচ্যসূচি ১৯ অনুযায়ী অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ায় ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে বৃহস্পতিবার সশরীরে ক্লাস নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তবে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন নীতি অনুযায়ী অর্ধবেলা (দুপুর ২টা পর্যন্ত) চলবে ক্লাস। ওইদিন পরিবহন সেবা শুধু দুবার দেওয়ার জন্যও সুপারিশ করা হয়। সকাল ৮টায় শিক্ষার্থী নিয়ে বাস ক্যাম্পাসে আসবে এবং দুপুর ২টায় আবার ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থী নিয়ে শহরে যাবে। যদিও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্ত পরিবহন পুলকে না জানিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি পরিবহন পুলের।

ওইদিন দুবার পরিবহন সেবা প্রদান ও নিজস্ব সাতটি নীল বাস বন্ধ রাখার কারণে সৃষ্টি হয় ভোগান্তি। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরিবহনে ফিটনেসবিহীন, নষ্ট গাড়ি পাঠিয়ে দায়সারাভাবে চুক্তি রক্ষা করছে বিআরটিসি। আর বিআরটিসি এবং কুবি প্রশাসনের উদাসীনতায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের।

হাসিবুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, বৃহস্পতিবার মাত্র দুই শিফটে লাল বাস চলাচল করে, যা শিক্ষার্থীদের সংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল। আবার এইদিন অনেকে বাড়িতে যাওয়ার কারণে দুপুর ২টার বাসে অনেক ভিড় হয়। প্রশাসনের উচিত, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বাসের সংখ্যা বাড়ানো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিআরটিসির চালক বলেন, বৃহস্পতিবারের লাল বাসগুলোতে অনেক ভিড় হয়। ছেলেমেয়েরা বাসে দাঁড়ানোরও জায়গা পান না। এইদিন যদি লাল বাসের পাশাপাশি নীল বাসগুলোও চালু রাখা হয়, তাহলে সবার জন্যই সুবিধা হবে।

পরিবহন পুলের সেকশন অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বাসে ভিড় হয় এ ব্যাপারে আমরা অবগত আছি। আমরা আগামী সপ্তাহে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলব। আমাদের কী পরিমাণ বাজেট রয়েছে সবকিছু চিন্তা করে আমরা বাসের শিডিউল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করব। আমরা মিটিং করে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত