দেশে গ্যাসের চাপ কম থাকায় কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সব প্রতিষ্ঠানের বিক্রি কমে গেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ঋণের উচ্চ সুদহার দেশীয় শিল্পকে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এসব কারণে দেশের শিল্প খাত একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার শিল্প ভবনে বিসিআই সভাপতির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) দেশীয় শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে বিসিআই সভাপতি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের আশ্বাসে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছিল। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানির দাম অনেক কমে এসেছে, তার পরও শুনছি আবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করা হবে। জ্বালানির সমস্যার একটা টেকসই সমাধান হওয়া জরুরি এবং জ্বালানির ক্ষেত্রে শিল্প খাতকে একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার স্পষ্ট পরিকল্পনা দেওয়া গেলে শিল্প খাতও সে অনুসারে এগিয়ে যেতে পারবে।
তিনি বলেন, আমরা দেশের এসব সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সম্পর্কে জানতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বসেছিলাম। বাংলাদেশ ব্যাংকের এখন প্রধান লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নিয়ে আসা। ব্যাংকঋণের সুদহার একটা নিদিষ্ট পর্যায়ে রাখতে স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করছে তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু পলিসির কারণে ব্যাংকগুলো বন্ডে বিনিয়োগের দিকে উৎসাহিত হচ্ছে। ফলে ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দেবে। নতুন বিনিয়োগ আসবে না। বিপরীতে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পাবে। আমাদের এখন বর্তমান শিল্পগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
রাজস্ব বোর্ডের নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দেশের শিল্প খাত রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন নীতির কারণে ব্যবসা পরিচালনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যানকে নিয়ে একটি সভা আহ্বানের জন্য শিল্পমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান তিনি।
বিসিআইর ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, দেশে সেবা শিল্পগুলো এখনো ইউটিলিটি বিল দিচ্ছে বাণিজ্যিক হারে। আমরা ইউটিলিটি বিলগুলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেটে করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি।
এসময় শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্পগুলোর অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত রয়েছি। আমরা চাই দেশে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাক। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনবিআরের চেয়ারম্যান, অর্থ সচিব এবং দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সভা আয়োজন করছি, যেখানে সব পক্ষ মিলে দেশীয় শিল্প যাতে টিকে থাকতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে।
সভায় বিসিআইর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইউনুস, পবিচালক ড. দেলোয়ার হোসেন রাজা, জিয়া হায়দার মিঠু, মিজানুর রহমান, নাজমুল আনোয়ার, সোহানা রউফ চৌধুরী, মো. সেলিম জাহান, মো. মাহফুজুর রহমান এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।
