নদীতীরের মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৫৫ পিএম

বরগুনার তালতলীতে আন্ধারমানিক নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির দায়ে একজনকে ২ মাস ও দুজনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ শনিবার (১৭ ফেব্রয়ারি) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া এলাকায় আন্ধারমানিক নদীর তীরে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত আনোয়ার তুমপা।

নিপেন রায় (৩৫) কে দুই মাস, মো. মহিউদ্দিন (২১) ও খোরশেদ (১৯)-কে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জানা যায়, তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া এলাকার আন্ধারমানিক নদীর তীর পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার যমুনা ব্রিকসের কাছে প্রতিকাঠা ৩ হাজার টাকা করে বিক্রি করেন স্থানীয় সুজন ও নিপেন রায় নামের দুই ব্যক্তি। পরে যমুনা ব্রিকসের লোকজন এক্সকাভেটর দিয়ে আন্ধারমানিক নদীর তীর কেটে মাটি নিয়ে যায়। নদীর তীর কাটার ফলে গ্রাম রক্ষা বাঁধটি হুমকির মুখে পড়ার শঙ্কায় ওই এলাকার পরিমল রায় নামের এক ব্যক্তি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও মাটি কাটা বন্ধ করা যায়নি। পরে শনিবার সকালে স্থানীয়রা মাটি কাটা বাধা দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে খবর দেয়।

খবব পেয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর ৪(গ) ধারার বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ইউএনও সিফাত আনোয়ার তুমপা। এছাড়া এসময় একটি এক্সকাভেটর ও মাটি পরিবহনের একটি টার্মিনাল জব্দ করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক খানের কাছে জিম্মায় রাখা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে ওই এলাকার একটি চক্র আন্ধারমানিক নদীর তীর কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে আসছিল। এতে বগীর বাঁধ থেকে আঙ্গারপাড়া পর্যন্ত গ্রাম রক্ষা বাঁধটি হুমকির মুখে পড়ে।

যমুনা ব্রিকসের ম্যানেজার আবুল বাশার বলেন, আমরা নদীর তীরের মাটি ক্রয় করেছি। সেই মাটি এক্সকাভেটর দিয়ে কেটে নিয়ে আসি। নদীর তীরের মাটি ক্রয় কিভাবে করা হলো জানতে চাইলে ফোনের লাইন কেটে দেন তিনি।

ইউএনও সিফাত আনোয়ার তুমপা বলেন, আন্ধারমানিক নদীর তীর কেটে বিক্রি করার অপরাধে তিনজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একটি এক্সকাভেটর ও টার্মিনাল জব্দ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত