সিলেটকে হারিয়ে টিকে থাকল বরিশাল

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২৭ এএম

একদিকে জাতীয় দলের তিন সংস্করণের অধিনায়ক। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া দুজন, আরেকজন নেই কেন্দ্রীয় চুক্তিতে। সিলেট স্ট্রাইকার্স আর ফরচুন বরিশালের ম্যাচটাকে দেখা যেতে পারে এভাবেও। একদিকে নাজমুল হোসেন শান্ত, অন্যদিকে তামিম ইকবালের সঙ্গে মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহরা। অতীতের সঙ্গে বর্তমানের দ্বৈরথে জয় হলো অতীতেরই। সিলেট স্ট্রাইকার্স সম্ভাবনা জাগিয়েও হেরে গেল ১৮ রানে। তারই সঙ্গে এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্লে-অফের সমীকরণ থেকে ছিটকে গেল সিলেট। ১০ ম্যাচে ৩ জয়ে প্রাপ্ত ৬ পয়েন্ট নিয়ে ৭ দলের আসরে সিলেট ষষ্ঠ, শেষ চারে থাকার দৌড়ে আর নেই গতবারের রানার্সআপরা।

টানা হারে শুরুর পর ফেব্রুয়ারিতেই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল সিলেট, অসম্ভব হলেও শেষদিকে টানা ম্যাচ জিতে তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করা। সেজন্য অন্যদিকে যা যা হওয়া দরকার হচ্ছিল তেমনটাই, রংপুর টানা জিতছে আর খুলনা ও চট্টগ্রাম টানা হারছে। কাল বরিশালকে হারিয়ে দিলে চতুর্থ স্থানটার জন্য লড়াই জমিয়ে তুলতে পারত সিলেট। কিন্তু পারলেন না আরিফুল হক আর বেনি হাওয়েল। ৪০ রানে ৬ উইকেটের পতনের পরও এই দুজন ৫২ বলে ১০৮ রানের জুটি গড়ে জয়ের জোরালো সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু ৬ বলের ব্যবধানে দুজনের বিদায়ে সেই সম্ভাবনার মৃত্যু, সেই সঙ্গে শেষ সিলেটের প্লে-অফে খেলার আশাও।

টসে জিতে বরিশাল অধিনায়ক তামিম ইকবাল নিয়েছিলেন ব্যাটিং। তার আর আহমেদ শেহজাদের শুরুটা ভালো হলেও স্থায়ী হয়নি। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকেই ফিরিয়েছেন তানজিম হাসান সাকিব। ১৯ রান করে তামিম হয়েছেন সাকিবের বলে বোল্ড আর ১৭ রান করে শেহজাদ ক্যাচ দিয়েছেন রায়ান বার্লের হাতে। এই চট্টগ্রামেই টেস্ট অভিষেকে ডাবল সেঞ্চুরি করে অসাধারণ এক ম্যাচে ওয়েস্ট  ইন্ডিজকে জিতিয়েছিলেন কাইল মায়ার্স।  বিপিএলে এই মৌসুমে নিজের প্রথম ম্যাচে সেই চট্টগ্রামেই কাইল মায়ার্স ব্যাটে বলে অনন্য হয়ে উঠলেন বরিশালের হয়ে। সমান ৩ চার ও ছক্কায় ব্যাটিংয়ে  ৩১ বলে ৪৮ রানের ইনিংসের পর বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ১২ রানে ৩ উইকেট। ইনিংসের প্রথম ওভারেই হ্যারি টেক্টর আর নাজমুল হোসেন শান্তকে আউট করে সিলেটকে যে ধাক্কাটা দিয়েছেন মায়ার্স, সেটা কাটিয়ে উঠতে লেগেছে অনেকটা সময়।

মায়ার্সের ৪৮ আর মুশফিকুর রহিমের ৫২ রানের ইনিংসের সঙ্গে বাকিদের ছোটখাটো অবদানে বরিশালের সংগ্রহ ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৮৩ রান। জবাবে মায়ার্সের সঙ্গে বাকিদের সঙ্গতে সিলেট থামে ৮ উইকেটে ১৬৫ রানে। ৪০ রানে ৬ উইকেট চলে যাওয়ার পর আরিফুল এবং বেনি হাওয়েল প্রায় জিতিয়েই দিচ্ছিলেন সিলেটকে। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আউট হলেন ৩১ বলে ৫৭ রান করা আরিফুল আর ২০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আউট হলেন ৩২ বলে ৫৩ রান করা হাওয়েল। শেষ ওভারে সিলেটের জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৩ রান, সাইফ উদ্দিনের ওভারটায় সিলেট নিতে পেরেছে মোটে ৪ রান। ১৮ রানের হারে শেষ সিলেটের প্লে-অফের সম্ভাবনা।

ম্যাচসেরার পুরস্কার নিতে এসে মায়ার্স বললেন, ‘সব শেষবার যখন এখানে এসেছিলাম, (টেস্ট ,২০২১) তখনো ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছিলাম, আমি এখানে ফিরতে পেরে এবং পারফর্ম করতে পেরে খুশি। আর বোলিংটা আমি আমার মতোই করেছি। ওয়ার্ম আপের সময় নতুন বলে একটু সুইং পাচ্ছিলাম, তাতেই মনে হয়েছিল শুরুটা আমিই করতে পারি’।

১০ ম্যাচে বরিশালের পয়েন্ট হয়েছে ১২, বাকি আছে দুটো ম্যাচ। পয়েন্ট টেবিলের দুই শীর্ষ দল রংপুর রাইডার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে। আগের দেখায় রংপুরকে হারালেও কুমিল্লাকে হারাতে পারেনি বরিশাল, তবে এবার দুই দলই বাড়িয়েছে শক্তি। তাই ১২ পয়েন্টের বেশি যদি জোটাতে না পারে বরিশাল তাহলে প্লে-অফের সমীকরণ নিয়ে বাড়বে জটিলতা। কারণ খুলনা এবং চট্টগ্রামের নিজের ভেতর ম্যাচ ছাড়াও আছে তলানির দুই দল ঢাকা ও সিলেটের বিপক্ষে। বরিশালের সমান পয়েন্ট হলেও নেট রানরেটে পিছিয়ে চট্টগ্রাম। বাকি ম্যাচে সেটা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে যথেষ্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত