কারচুপি করার দায়ে নিজের বিচার চাইলেন কমিশনার

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:০১ এএম

পাকিস্তানে পিএমএল-এন, পিপিপিসহ সমমনা দলগুলোর সরকার গঠনের তোড়জোড়ের মধ্যে নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে বিক্ষোভ-সমাবেশ জোরালো হচ্ছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে পাকিস্তানের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় জালিয়াতি’ আখ্যা দিয়ে গতকাল শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ করেছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। বিক্ষোভ দমনে করাচিসহ বিভিন্ন শহরে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। এর মধ্যে গতকাল ভোট কারচুপি নিয়ে ‘বোমা’ ফাটালেন দেশটির রাওয়ালপিন্ডি ডিভিশনের কমিশনার লিয়াকত আলি চাতা। ভোট কারচুপির সঙ্গে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দিয়ে পদত্যাগ করেছেন পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি ডিভিশনের কমিশনার লিয়াকত আলি চাতা। একই সঙ্গে তিনি নিজের ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য জড়িত কর্মকর্তার বিচার চেয়েছেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন বলছে, ‘গতকাল শনিবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে লিয়াকত আলি দাবি করেন, পিন্ডিতে ১৩ জন প্রার্থীকে জোর করে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা ৫০ হাজার ভোটে পরাজিত প্রার্থীকে ভোট বেশি দেখিয়ে জয়ী করেছি।’

লিয়াকত বলেন, ‘আমি রাওয়ালপিন্ডি ডিভিশনে অবিচার করেছি। আমি আজ ফজরের নামাজের পর আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম। তবে পরে আমি চিন্তা করলাম, আমি কেন মহাপাপের মৃত্যুকে বরণ করে নেব? কেন আমি সবকিছু মানুষের সামনে প্রকাশ করে দেব না?’

লিয়াকত আলি বলেন, ‘রাওয়ালপিন্ডি ডিভিশনে আমি ভোট জালিয়াতির দায়-দায়িত্ব মেনে নিচ্ছি এবং আমার নিজেকে পুলিশে সোপর্দ করছি।’

কমিশনার লিয়াকত দাবি করেন, তিনি এই শহরে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। তবে দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিয়ে নিজের ভাবমূর্তিকে এভাবে কলঙ্কিত করায় তিনি অনুতপ্ত।

লিয়াকত বলেন, ‘এই কাজ করার পর আমি রাতে ঘুমাতে পারিনি। এখন আমি শান্তিপূর্ণভাবে মরতে চাই। আমি যা করেছি, সেজন্য আমার শাস্তি হোক। আমার সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ইসিপির জড়িত অন্যান্য কর্মকর্তার শাস্তি হওয়া উচিত।’

এদিকে নির্বাচনে কথিত কারচুপির বিরুদ্ধে গতকাল সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল পিটিআই। তবে তাদের বিক্ষোভ ঠেকাতে ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। ডন বলছে, গতকাল ইসলামাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানী শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য শহর জুড়ে উচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে পুলিশ। পিটিআই দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ঘোষণায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, যেকোনো সময় এফ৯ পার্কের কাছে ট্রাফিক বাড়ানো হতে পারে। এ এলাকায় জনগণকে অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা এড়িয়ে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসলামাবাদ জুড়ে টহল বাড়ানো হয়েছে এবং চেকপয়েন্টগুলোতে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। জরুরি এবং যেকোনো পরিস্থিতি এড়াতে কাউন্টার টেররিজম বিভাগের স্পেশাল ফোর্সও মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে টহল অব্যাহত রেখেছে তারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলি খান বলেন, ‘যারা বিশ্বাস করেন ম্যান্ডেট পরিবর্তন ও নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে আমরা সেসব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’ গতকাল শনিবার বিকেলে পিটিআই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে। এই কর্মসূচিতে জনসাধারণকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত