চবি ছাত্রলীগের দ্বন্দ্ব

সংঘাত থামাতে সব ধরনের ব্যবস্থা চান শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:০৫ এএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দুটি উপপক্ষের মধ্যে টানা তিন দিন সংঘর্ষের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

এর পাশাপাশি ফৌজদারি আইনেও ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ জানান শিক্ষামন্ত্রী।

উপাচার্য ড. শিরীণ আখতারের সঙ্গে কথা বলে এসব নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানরত অছাত্রদের হল ত্যাগে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

বার্তায় আরও বলা হয়, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে যেন দায়ী ব্যক্তি নিষ্কৃতি না পায়, এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রবিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভা আহ্বান করতে রেজিস্ট্রার এম নূর আহমদকে নির্দেশ দিয়েছেন উপাচার্য শিরীণ আখতার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদ জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে এই বৈঠক হবে। বৈঠকে সেখানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি আলোচনা করা হবে।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই উপপক্ষ ‘চুজ ফ্রেন্ডস কেয়ারফুলি (সিএফসি)’ ও ‘সিক্সটি নাইন’-এর সদস্যরা নিজেদের যথাক্রমে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারী বলে পরিচয় দেন।

১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের এই দুটি উপপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। টানা তিন দিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষে দুপক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের পক্ষগুলো একে অন্যকে দোষারোপ করে আসছে।

সিএফসি গ্রুপের নেতা সাদাফ খান বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা আগ বাড়িয়ে কোনো গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষ-ঝামেলা তৈরি করেনি। অন্য গ্রুপের কর্মীরাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।’

সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা সাইদুল ইসলাম সাইদ বলেন, অন্য গ্রুপের নেতাকর্মীদের উসকানিমূলক আচরণের জবাব দিতে গিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

তবে বিজয় গ্রুপের একাংশের নেতা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সিক্সটি নাইন গ্রুপে কোনো আদর্শিক নেতৃত্ব না থাকাতে তারা বেপরোয়া হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত