মেজর লিগ সকার (এমএলএস), যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে বড় লিগ। আর সব জায়গার মতো বাংলাদেশের ফুটবল অনুরাগীরাও একটা বছর আগেও মেজর লিগ সকারের খোঁজ রাখতেন না। এখন ঠিকই রাখেন। পৃথিবীর তাবৎ লিগগুলোর তুলনায় জৌলুশ কম থাকলেও গত মৌসুমে বিশ্বসেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি যোগ দেওয়ায় কদর বেড়েছে আয়োজনটির। কিংবদন্তি ফুটবলার ডেভিড বেকহামের দল ইন্টার মায়ামির হয়ে এ বছর মৌসুমের শুরু থেকেই মাঠ মাতাবেন মেসি। ইন্টার মায়ামি ও রিয়াল সল্ট লেকের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মাঠে গড়াবে এমএলএসের ২৯তম মৌসুম।
১৯৯৬ সাল থেকে হয়ে আসা এমএলএসে ২০০৪ সালের পর নতুন ২০টি ক্লাব যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্লাব এখন ২৯টি। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি, বাকি তিনটি কানাডার। আগামী মৌসুমে যোগ দেবে স্যান ডিয়েগো ফুটবল ক্লাব।
এমএলএসের কাঠামো বিশ্বের অন্যান্য লিগের মতো গতানুগতিক নয়। শিরোপা জিততে হলে দলগুলোকে পেরোতে হয় কয়েকটি ধাপ। সাধারণত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় এর মৌসুম। লিগের প্রথম ধাপ অর্থাৎ রেগুলার সিজন শেষ হয় অক্টোবরের দিকে। ২৯টি দল দুটি কনফারেন্সে বিভক্ত হয়ে খেলে। ইস্টার্ন কনফারেন্সে রয়েছে ১৫টি ক্লাব, যার একটি লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামি। বাকি ১৪টি ক্লাব ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সে।
প্রথম ধাপে প্রতিটি ক্লাব মোট ৩৪ করে ম্যাচ খেলে। একেকটি দল নিজেদের কনফারেন্সের দলগুলোর বিপক্ষে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে দুবার করে মুখোমুখি হয়। অর্থাৎ ইন্টার মায়ামির খেলতে হবে ২৮ ম্যাচ। বাকি ছয় ম্যাচ তারা খেলবে অন্য কনফারেন্সের দলের বিপক্ষে। এবার নিজেদের প্রথম ম্যাচটিই তারা খেলতে যাচ্ছে ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সের রিয়াল সল্ট লেকের বিপক্ষে।
রেগুলার সিজন শেষে প্রতিটি কনফারেন্সের সেরা ৭টি দল সরাসরি যাবে ‘রাউন্ড ওয়ান বেস্ট অফ থ্রি সিরিজ’-এ। দুই কনফারেন্সের ৮ ও ৯ নম্বরে থাকা দল চারটি খেলবে ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ ম্যাচ। এখান থেকে জয়ী দুটো দলও যোগ দেবে ‘বেস্ট অফ থ্রি সিরিজ’-এ। অর্থাৎ এই সিরিজে মোট দলের সংখ্যা হবে ১৬টি। এই পর্ব পরিচিত ‘ফাইনাল সিরিজ’ নামে।
প্রতিটি কনফারেন্সে ৮ দল পয়েন্ট টেবিলে অবস্থানের ভিত্তিতে একে অন্যের সঙ্গে চারটি ম্যাচ খেলবে। যেমন ১ নম্বর দল ৮ নম্বর দলের সঙ্গে, ২ খেলবে ৭, ৩ খেলবে ৬ আর ৪ খেলবে ৫ নম্বর দলের সঙ্গে। একেক দল প্রতিপক্ষের সঙ্গে দুবার খেলবে, সেখানে একই দল দুবার না জিতলে খেলা হবে তৃতীয় ম্যাচ। সেখানেও জয়ী নিশ্চিত না হলে টাইব্রেকারের আশ্রয় নেওয়া হবে। এভাবে চার উঠবে একেক কনফারেন্সের সেমিফাইনালে। সেখানেও হবে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে দুই ম্যাচ। জয়ীরা খেলবে কনফারেন্স ফাইনালে। আর দুই কনফারেন্স ফাইনালের জয়ীরা খেলবে এমএলএস কাপ ফাইনালে। আর সে ম্যাচের জয়ী গণ্য হবে লিগ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে।
সবশেষ মৌসুমে এমএলএস শিরোপা জেতা ক্লাবটি হলো কলম্বাস ক্রু। এমএলএস কাপ ফাইনালে লস অ্যাঞ্জেলস এফসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে তারা। আর রেগুলার সিজনে সবচেয়ে ভালো করা দল এফসি সিনসিনাটি জেতে সাপোর্টার্স শিল্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের এই মেজর লিগ সকারে কোনো ধরনের রেলিগেশন নেই। এর পাশাপাশি এমএলএস-এ চালু রয়েছে কনকাশন সাব পদ্ধতি। একটি ম্যাচে কোনো দল নিয়মিত ৫ খেলোয়াড় বদলির বাইরেও সর্বোচ্চ দুটি কনকাশন সাব এর সুযোগ পাবে। কনকাশন সাব হলে সেক্ষেত্রে প্রতিপক্ষও একজন অতিরিক্ত খেলোয়াড় বদলের সুযোগ পায়।
