শূন্যরেখায় মিলনমেলায় দুই বাংলার ভাষাপ্রেমীরা

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:২৫ এএম

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষার টানে দুই বাংলার ভাষাপ্রেমীদের মিলনমেলা বসে বেনাপোল ও দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের শূন্যরেখায়। গতকাল বুধবার বেনাপোল চেকপোস্ট নো ম্যানস ল্যান্ডে নির্মিত অস্থায়ী শহীদবেদিতে সকাল সাড়ে ১০টায় ভারত ও বাংলাদেশের ভাষাপ্রেমী শত শত মানুষ যৌথভাবে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ ছাড়া হিলি সীমান্তের শূন্যরেখায় ফুল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ যৌথভাবে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।

বেনাপোল সীমান্তে ভারতের পক্ষে অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও অঞ্চলের এমএলএ নারায়ণ গোস্বামী, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ সভাপতি বীণা মন্ডল, সাবেক এমপি মমতা ঠাকুর, গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্রীমতী ইলাবাচ্চী, সাবেক বিধায়ক সুরজিত বিশ্বাস, সাবেক সংসদ সদস্য বিশ্বজিত দাস, হাবড়া পৌর মেয়র নারায়ণ সাহা।

বাংলাদেশের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান, যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার রাজবংশী, বেনাপোল পৌর মেয়র আলহাজ নাসির উদ্দিন, অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি শ্রী সুমন ভক্ত, ইমগ্রেশন ওসি কামরুজ্জামান বিশ্বাস, শার্শা থানার ওসি মনিরুজ্জামান, শার্শা উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফ্ফর হোসেন, বিজিবির আইসিপি ক্যাম্পের কমান্ডার মিজানুর রহমান, যুবলীগের সভাপতি অহেদুজ্জামান অহিদ এবং সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন। এ ছাড়াও সর্বস্তরের জনগণ এতে অংশ নেন। পরে  দুদেশের জনগণের জন্য উভয় দেশ থেকে মিষ্টি পাঠানো হয়।

অন্যদিকে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের শূন্যরেখায় ফুল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ যৌথভাবে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে। দুই বাংলার ভাষাপ্রেমীদের মেলবন্ধ অটুট রাখতে বেশ কিছুদিন ধরেই হিলি সীমান্তে এই আয়োজন করা হয়ে আসছে। সামনের দিনে আরও বড় পরিসরে রাষ্ট্রীয়ভাবে সীমান্তের শূন্যরেখায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথা জানিয়েছে আয়োজকসহ জনপ্রতিনিধিরা।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেটে বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে দুদেশের পক্ষে এই ফুল বিনিময় করা হয়। ভারতের হিলির উজ্জীবন সোসাইটি ও বালুরঘাট টু তুরা করিডর বাস্তবায়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ ভারতের পক্ষ থেকে দুটি ফুলের তোড়া বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সাপ্তাহিক আলোকিত সীমান্ত কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও একটি ফুলের তোড়া ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময় এসব ফুলের তোড়াগুলো নিজ নিজ দেশের শহীদবেদিতে অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ভারতের উজ্জীবন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সুরুজ দাশ বলেন, দুই বাংলার ভাষা কিন্তু এক আমরা মায়ের ভাষা বাংলাতেই কথা বলি। শুধু সীমান্তের তারকাঁটার বেড়া আমাদের দুটি রাষ্ট্রকে বিভক্ত করেছে। কিন্তু আমাদের আত্মার যে সম্পর্ক ভাষার যে টান সেটি কিন্তু বিভেদ ঘটাতে পারেনি। বাংলাদেশের আয়োজক সাপ্তাহিক আলোকিত সীমান্ত পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা চাই দুই বাংলার বাংলাভাষী মানুষদের মধ্যে যেন ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি বজায় থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত