'আমার স্ত্রী খায়কুন নাহার চুমকির বাবার মৃত্যুর পর সে খুব ভেঙে পড়েছিল। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই দুরূহ হয়ে উঠেছিল। এর ২ বছর পর আমার ছেলে আহনাফ তাহমিন আয়হামের জন্ম হয়। আহনাফের জন্মের পর তার মা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। আহনাফই ছিল তার ধ্যান জ্ঞান। এখন সেই আহনাফকে চিকিৎসকরা হত্যা করলেন। ছেলের লাশ দাফনের পর এখন স্ত্রীকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি- আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলছিলেন শিশু আহনাফের বাবা ফখরুল আলম।
খতনা করাতে গিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে শিশু আহনাফের মৃত্যু হয়। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। খতনা করতে গিয়ে ‘ফুল অ্যানেসথেসিয়া’ দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়।
শিশু আহনাফের বাবা ফখরুল আলম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেটা মেধাবী ছিল। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকরা সবসময় বলতেন ছেলেটার যত্ন নিতে। আমার ছেলেটার টিউশন পড়তে হত না, ক্লাসে শিক্ষকরা যা পড়াতেন তাতেই সে ভালো ফলাফল করতো। সে স্কুলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিত। ক্লাসের ক্যাপ্টেন ছিল, স্কুলের স্কাউট টিমেও ছিল আহনাফ। এমন একটা ছেলেকে ওরা মেরে ফেলল।
তিনি বলেন, কত স্বপ্ন ছিল ছেলেটাকে নিয়ে। সকালে ঘুম থেকে তোলে আমার স্ত্রী দুই ছেলেকে খাওয়া দাওয়া করিয়ে স্কুলে পাঠাত, আর অপেক্ষা করতো কখন তারা স্কুল থেকে ফিরে আসে। এখন আহনাফের স্মৃতিগুলো আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আমার ছেলেটাকে যদি ফিরে পেতাম।
জানা যায়, মালিবাগের জে এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারে অর্থোপেডিক ও ট্রমা সার্জন ডা. এস এম মুক্তাদিরের তত্ত্বাবধানে মঙ্গলবার রাতে সন্তানকে সুন্নতে খৎনা করাতে আসেন শিশু আয়হামের বাবা ফখরুল আলম ও মা খায়কুন নাহার চুমকি। রাত আটটার দিকে খৎনা করানোর জন্য অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পর আর ঘুম ভাঙেনি আহনাফের। এর ঘণ্টাখানেক পর হাসপাতালটির পক্ষ থেকে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
